জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের রয়েছে বিশেষ veto power।
একটি যুদ্ধ থামাতে পারে ১৫টি দেশের একটি পরিষদ। আবার সেই পরিষদের মাত্র একটি দেশের ‘না’ অনেক সময় একটি প্রস্তাব আটকে দিতে পারে।
এই অস্বাভাবিক ক্ষমতার কেন্দ্রেই রয়েছে UN Security Council।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সবাই নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নয়। Council-এ থাকে মাত্র ১৫টি দেশ—এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য। আর স্থায়ী পাঁচ দেশের হাতে রয়েছে এমন একটি বিশেষ ক্ষমতা, যা অন্য কোনো সদস্যের নেই: veto power।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি হওয়া এই ব্যবস্থায় কেন মাত্র পাঁচটি দেশ এমন ক্ষমতা পেল?
আর এই পাঁচ দেশ কি সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ বলেই এই অধিকার পেয়েছে?
UN Security Council কী?
UN Security Council বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গগুলোর একটি।
এর মূল দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। জাতিসংঘ সনদের Article 24 নিরাপত্তা পরিষদকে এ বিষয়ে primary responsibility দিয়েছে।
পরিষদ কোনো আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করতে পারে। পরিস্থিতিকে শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থা নিতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে collective military action-এর অনুমোদনও দিতে পারে।
অর্থাৎ General Assembly যেখানে জাতিসংঘের বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ, Security Council সেখানে আন্তর্জাতিক peace and security-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামো।
Security Council-এ কয়টি দেশ থাকে?
নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য থাকে।
এর মধ্যে:
- ৫টি স্থায়ী সদস্য
- ১০টি অস্থায়ী সদস্য
স্থায়ী পাঁচ দেশ হলো:
- যুক্তরাষ্ট্র (United States)
- রাশিয়া (Russian Federation)
- চীন (China)
- যুক্তরাজ্য (United Kingdom)
- ফ্রান্স (France)
অন্যদিকে ১০টি অস্থায়ী সদস্যকে জাতিসংঘের General Assembly নির্বাচিত করে। তাদের মেয়াদ দুই বছর এবং তারা পরপর পুনর্নির্বাচিত হতে পারে না।
এখানেই প্রথম বড় পার্থক্য।
সব ১৫ সদস্যের একটি করে ভোট আছে।
কিন্তু পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভোটের সঙ্গে যুক্ত আছে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা—veto।
Veto Power কী?
সহজ ভাষায়, veto হলো কোনো প্রস্তাব আটকে দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা।
Security Council-এর substantive বা non-procedural সিদ্ধান্ত সাধারণত পাস করতে অন্তত ৯টি ইতিবাচক ভোট প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কোনো একজন negative vote দিলে প্রস্তাবটি আটকে যেতে পারে।
ধরা যাক:
১৩টি দেশ পক্ষে ভোট দিল।
কিন্তু—
একটি P5 দেশ বিপক্ষে ভোট দিল।
তাহলে সেই substantive resolution পাস হবে না।
এটাই veto-এর শক্তি।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।
স্থায়ী সদস্য বিরত থাকলে বা abstain করলে সেটি veto নয়।
যদি প্রয়োজনীয় ৯টি ভোট পাওয়া যায় এবং কোনো permanent member শুধু abstain করে, তাহলে প্রস্তাব পাস হতে পারে।
পাঁচটি দেশ কেন এই বিশেষ ক্ষমতা পেল?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বিশ্বব্যবস্থায়।
১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় বিশ্বনেতারা এমন একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা বড় শক্তিগুলোকে একই ব্যবস্থার মধ্যে রাখবে।
সেই সময় পাঁচ দেশ—United States, Soviet Union, United Kingdom, France এবং China—জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিল।
UN-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, Charter-এর নির্মাতারা মনে করেছিলেন এই পাঁচ দেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তাদের permanent membership এবং বিশেষ voting power দেওয়া হয়।
অর্থাৎ বিষয়টি শুধু—
“এই পাঁচ দেশ সবচেয়ে বড়”
—এমন সরল যুক্তি ছিল না।
এর পেছনে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী power structure এবং বড় শক্তিগুলোকে নতুন international order-এর ভেতরে রাখার রাজনৈতিক বাস্তবতা।
তাহলে veto কেন দরকার ছিল?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ historical logic রয়েছে।
জাতিসংঘের আগের আন্তর্জাতিক সংস্থা League of Nations বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করতে পারেনি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতেও ব্যর্থ হয়েছিল।
নতুন UN system তৈরি করার সময় একটি ধারণা সামনে আসে:
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলো যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে একেবারেই বাধ্য না হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
তাই P5-কে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়, যাতে বড় শক্তিগুলোর মৌলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো Security Council action নেওয়া কঠিন হয়।
অর্থাৎ veto-এর একটি যুক্তি ছিল—
Great powers-কে system-এর বাইরে না রেখে system-এর ভেতরেই রাখা।
এই কাঠামোকে জাতিসংঘের একেবারে প্রাথমিক নকশার অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
P5 কারা?
১. United States
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসে।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
২. Soviet Union → Russia
১৯৪৫ সালের Security Council-এর permanent seat ছিল Soviet Union-এর।
পরবর্তীতে Soviet Union বিলুপ্ত হলে Russian Federation সেই আসন গ্রহণ করে। UN-এর বর্তমান কাঠামোতে Russia P5-এর সদস্য।
৩. United Kingdom
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় Allied powers-এর অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল যুক্তরাজ্য।
যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তাই permanent seat পায় দেশটি।
৪. France
France-ও যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং permanent member হিসেবে Security Council-এ জায়গা পায়।
৫. China
১৯৪৫ সালে China-ও Security Council-এর permanent member হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
আজ সেই permanent seat People’s Republic of China ধারণ করে।
General Assembly আর Security Council কি একই?
না।
এটি বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
General Assembly = ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের বৃহত্তর মঞ্চ।
Security Council = ১৫ সদস্যের peace and security decision-making body।
General Assembly-তে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি ভোট থাকে।
কিন্তু Security Council-এ ১৫টির মধ্যে পাঁচটি দেশের permanent status এবং veto power রয়েছে।
তাই সংখ্যার দিক থেকে General Assembly বড় হলেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে Security Council-এর ক্ষমতা অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও কার্যকর।
Security Council কী কী করতে পারে?
নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার পরিধি বিস্তৃত।
এটি:
- আন্তর্জাতিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা করতে পারে
- শান্তির জন্য হুমকি শনাক্ত করতে পারে
- সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাতে পারে
- অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা নিতে পারে
- arms-related ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করতে পারে
- peacekeeping operation প্রতিষ্ঠা করতে পারে
- নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে collective military action অনুমোদন করতে পারে
- নতুন সদস্য রাষ্ট্রের UN membership-এর সুপারিশ করতে পারে
- Secretary-General নিয়োগের বিষয়ে General Assembly-কে সুপারিশ করতে পারে।
এ কারণেই Security Council-এর একটি resolution অনেক সময় শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য থাকে না।
Charter-এর Article 25 অনুযায়ী, UN সদস্য রাষ্ট্রগুলো Security Council-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।
একটি Resolution কীভাবে পাস হয়?
এখানে একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক।
ধরা যাক Security Council-এ একটি substantive resolution উঠল।
মোট সদস্য:
১৫
প্রয়োজন:
কিন্তু permanent five-এর কোনো সদস্য যদি negative vote দেয়, তাহলে সাধারণত সেই resolution আটকে যাবে।
অর্থাৎ হিসাবটি শুধু:
৯ বনাম ৬
নয়।
বরং:
৯ ভোট + P5-এর কোনো blocking negative vote নেই
—এই দুই শর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব বিষয়ে কি veto চলে?
না।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ technical distinction।
Security Council-এর procedural matters-এর ক্ষেত্রে ৯টি affirmative vote যথেষ্ট; সেখানে P5-এর veto একইভাবে প্রযোজ্য নয়।
অন্যদিকে substantive matters-এ permanent members-এর concurrence গুরুত্বপূর্ণ।
তাই “P5 যেকোনো বিষয়ে veto দিয়ে সবকিছু থামিয়ে দিতে পারে”—এভাবে বলা অতিরঞ্জিত।
Veto কি যুদ্ধ বন্ধ করে, নাকি যুদ্ধ থামতে বাধা দেয়?
দুই সম্ভাবনাই আছে।
একদিকে veto কোনো এমন সিদ্ধান্ত ঠেকাতে পারে, যা একটি বড় শক্তি মনে করে পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে।
অন্যদিকে কোনো সংঘাতের সময়ে Security Council যদি ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, veto কার্যকর আন্তর্জাতিক action আটকে দিতে পারে।
এই দ্বৈত চরিত্রই veto system-এর সবচেয়ে বড় বিতর্ক।
জাতিসংঘ নিজেও Security Council-এর decision-making stalemate-কে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, veto power-এর কারণে Council-এর paralysis অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়।
তাহলে veto কি UN-এর দুর্বলতা?
এটি নির্ভর করে আপনি কোন দিক থেকে দেখছেন।
সমর্থকদের যুক্তি
Veto বড় শক্তিগুলোর মৌলিক নিরাপত্তা স্বার্থকে Security Council-এর কাঠামোর মধ্যে রাখে।
যদি P5-এর কোনো দেশ নিজের অস্তিত্বগত স্বার্থের বিরুদ্ধে Council decision মেনে নিতে না চায়, তাহলে veto সেই সংঘাতকে UN-এর ভেতরে আটকে রাখার একটি mechanism হতে পারে।
অর্থাৎ—
Veto = Great-power buy-in
এটি veto system-এর সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তিগুলোর একটি।
সমালোচকদের যুক্তি
সমালোচকদের প্রশ্ন হলো:
একটি দেশের negative vote কেন ১৯৩টি দেশের বৃহত্তর মতামতের ওপর এত বেশি প্রভাব ফেলবে?
বিশেষ করে কোনো সংঘাতে যদি permanent member নিজেই সরাসরি পক্ষভুক্ত বা ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়, তখন impartiality নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
এই কারণেই veto-কে UN reform debate-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দেখা হয়।
Veto কি শুধু ক্ষমতা, নাকি কূটনৈতিক অস্ত্রও?
দুটিই।
কোনো resolution-এর বিরুদ্ধে veto দেওয়ার আগে permanent member-রা প্রায়ই negotiation, amendment এবং diplomatic bargaining-এর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।
ফলে veto না দিলেও একটি দেশ জানে—
“প্রয়োজনে আমি veto দিতে পারি।”
এই সম্ভাবনাই negotiation-এর শক্তি বদলে দেয়।
অর্থাৎ veto শুধু একটি button নয়।
এটি একটি diplomatic bargaining power।
Veto না দিয়েও কি P5 প্রভাব ফেলতে পারে?
অবশ্যই।
একটি permanent member abstain করতে পারে।
এতে resolution পাস হতে পারে, যদি প্রয়োজনীয় ৯টি affirmative vote পাওয়া যায়।
আবার draft resolution আলোচনার পর্যায়েই পরিবর্তিত হতে পারে।
কারণ অন্যান্য দেশ জানে, কোনো permanent member-এর মৌলিক আপত্তি থাকলে শেষ পর্যন্ত veto-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ফলে ভোটের আগেই bargaining শুরু হয়।
কেন Security Council reform-এর দাবি উঠছে?
বিশ্ব ১৯৪৫ সালে যেমন ছিল, ২০২৬ সালে তেমন নেই।
তখনকার power structure এবং আজকের global economy-এর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
আজ:
- Asia-এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে
- India একটি বড় global power
- Japan ও Germany-এর অর্থনৈতিক প্রভাব বিশাল
- Africa-এর জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে
- Latin America-এর প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে
কিন্তু permanent membership এখনো পাঁচ দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ফলে অনেক দেশ প্রশ্ন তোলে:
Security Council কি আজকের বিশ্বকে যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব করে?
জাতিসংঘের reform discussions-এ Council-এর membership বাড়ানো, equitable representation এবং decision-making কাঠামো নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছে।
India কেন permanent seat চায়?
এটি Security Council reform debate-এর সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর একটি।
ভারতের যুক্তির ভিত্তি হলো তার:
- বিশাল জনসংখ্যা
- বড় অর্থনীতি
- আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভূমিকা
- শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘ অংশগ্রহণ
- Global South-এর প্রতিনিধিত্ব
তবে permanent membership সম্প্রসারণ শুধু কোনো একটি দেশের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না।
এটি UN Charter-এর কাঠামো এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই বিষয়টি সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়।
Security Council বাড়ানো কি সহজ?
না।
এখানেই reform debate-এর সবচেয়ে কঠিন অংশ।
Security Council-এর composition পরিবর্তন করতে হলে UN Charter amendment প্রয়োজন।
Charter amendment-এর জন্য General Assembly-তে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং Member States-এর ratification প্রয়োজন; permanent members-দের ratification-ও এতে গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে যারা বর্তমান ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাবান, তাদের সম্মতি ছাড়া কাঠামোগত পরিবর্তন করা কঠিন।
এটি একটি classic institutional paradox:
যাদের ক্ষমতা কমানো বা ভাগ করে দেওয়া হবে, পরিবর্তনটি কার্যকর করতেও তাদের সম্মতি প্রয়োজন।
P5-এর veto কি আন্তর্জাতিক ক্ষমতার পুরনো মানচিত্র?
অনেকটা তাই।
Security Council-এর বর্তমান কাঠামো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী power balance-এর একটি institutional snapshot।
আজকের বিশ্ব অনেক বেশি multipolar।
China-এর উত্থান, India-এর গুরুত্ব, European Union-এর অর্থনৈতিক শক্তি, Russia-এর strategic capability এবং Global South-এর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্ব—সব মিলিয়ে international system বদলেছে।
কিন্তু Security Council-এর permanent structure পুরোপুরি বদলায়নি।
এই কারণেই UN Security Council reform এখন শুধু UN-এর administrative বিষয় নয়।
এটি আসলে বিশ্বক্ষমতার বণ্টন নিয়ে একটি বড় geopolitical প্রশ্ন।
UN Security Council বনাম General Assembly: মূল পার্থক্য
| বিষয় | Security Council | General Assembly |
|---|---|---|
| সদস্য | ১৫ | ১৯৩ |
| স্থায়ী সদস্য | ৫ | নেই |
| অস্থায়ী সদস্য | ১০ | প্রযোজ্য নয় |
| সদস্যদের ভোট | ১টি করে | ১টি করে |
| P5 veto | আছে | নেই |
| মূল দায়িত্ব | International peace & security | বৃহত্তর UN deliberation |
| অস্থায়ী সদস্যের মেয়াদ | ২ বছর | প্রযোজ্য নয় |
Security Council-এর ১৫ সদস্য এবং General Assembly-এর ১৯৩ সদস্যের কাঠামো UN-এর official information-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (United Nations)
তাহলে পাঁচটি দেশই কি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী?
এখানে উত্তরটি না।
P5 status কোনো universal ranking নয়।
উদাহরণ হিসেবে India, Japan, Germany, Brazil বা অন্য অনেক দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব বিশাল।
কিন্তু permanent membership হলো historical-institutional privilege।
অর্থাৎ:
Global power ≠ Security Council permanent membership
তবে P5 status নিজেই global power-এর একটি বড় institutional expression।
Veto-এর সবচেয়ে বড় paradox
Security Council-এর সবচেয়ে বড় শক্তিই আবার তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হতে পারে।
একদিকে:
P5 veto → বড় শক্তিগুলোকে কাঠামোর ভেতরে রাখে।
অন্যদিকে:
P5 veto → ঐকমত্য না হলে Council-এর action আটকে দিতে পারে।
অর্থাৎ একই mechanism:
stability তৈরি করতে পারে
আবার
paralysis-ও তৈরি করতে পারে।
এটাই UN Security Council-এর মৌলিক paradox।
ভবিষ্যতে Security Council বদলাবে?
নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তবে reform-এর চাপ থাকবে।
কারণ international system পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিশ্ব আরও multipolar হচ্ছে। Global South-এর দেশগুলো আরও বেশি representation চাইছে। একই সঙ্গে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে strategic competition বাড়ছে।
ফলে ভবিষ্যতের debate সম্ভবত তিনটি প্রশ্নকে ঘিরে থাকবে:
১. Council-এ আরও দেশ যোগ হবে কি?
২. নতুন permanent member তৈরি হবে কি?
৩. Veto power-এর ব্যবহার সীমিত বা সংস্কার করা সম্ভব হবে কি?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো সহজ উত্তর নেই।
শেষ কথা: পাঁচটি দেশের হাতে এত ক্ষমতা কেন?
UN Security Council-এর বর্তমান কাঠামো বুঝতে হলে শুধু veto power দেখলে হবে না।
এর পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা, great-power politics এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার একটি বিশেষ institutional design।
পাঁচ permanent member—United States, Russia, China, United Kingdom এবং France—কে স্থায়ী আসন ও veto দেওয়া হয়েছিল এই ধারণা থেকে যে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বড় শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
কিন্তু ৮০ বছরের বেশি সময় পর প্রশ্নটি আরও বড় হয়েছে।
১৯৪৫ সালের শক্তির ভারসাম্য কি আজকের পৃথিবীকেও প্রতিনিধিত্ব করে?
এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আগামী দিনের UN Security Council reform-এর সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।
কারণ Security Council শুধু জাতিসংঘের একটি কক্ষ নয়।
এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে নিজেদের জাতীয় স্বার্থের সংঘাত মেটানোর চেষ্টা করে।
আর সেই কক্ষের একটি ছোট্ট শব্দ—
“Veto”
—কখনো কখনো পুরো বিশ্বের কূটনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।
FAQ
UN Security Council কী?
এটি জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গগুলোর একটি, যার primary responsibility হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
Security Council-এ কয়টি দেশ থাকে?
মোট ১৫টি—৫টি permanent এবং ১০টি non-permanent member।
P5 দেশগুলো কোনগুলো?
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
Veto কী?
Permanent member-এর negative vote substantive Security Council resolution আটকে দিতে পারে।
P5 দেশ abstain করলে কি resolution আটকে যায়?
না। Permanent member abstain করলে সেটি veto হিসেবে গণ্য হয় না; প্রয়োজনীয় ৯টি affirmative vote থাকলে resolution পাস হতে পারে।
কেন পাঁচ দেশ veto পেল?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী UN system তৈরি করার সময় এই পাঁচ দেশকে আন্তর্জাতিক peace and security-এর প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। সেই কারণে তাদের permanent status ও special voting power দেওয়া হয়।
Related Reading
আপনার Global Power & World Order pillar cluster-এর জন্য এই article-টির সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে যুক্ত হতে পারে:
- Multipolar World কী? একমেরু বিশ্ব থেকে বহু-মেরু বিশ্বে কীভাবে গেল পৃথিবী?
- Global South কী? কেন বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য
- BRICS কী? কেন এই জোট নিয়ে এত আলোচনা?
- NATO কী? কেন গঠিত হয়েছিল, কীভাবে কাজ করে এবং কোন কোন দেশ এর সদস্য?
Outbound Source Links
- UN Security Council — Voting System & Veto
- United Nations Charter — Full Text
- UN Security Council — Current Members
- UN Security Council — Functions and Powers
- UN — Peace and Security & Security Council Reform
