কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাশেদ খাঁন

শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। জামায়াত ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বাজলেন্স ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। দলটি নতুন করে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও ভবিষ্যতে আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন রাশেদ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমও তাঁর বক্তব্যের একই মূল বক্তব্য প্রকাশ করেছে

রাশেদ খাঁন বলেন, “আওয়ামী লীগের অধ্যায় ক্লোজ হয়ে গেছে। শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না।” তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ দেশে যে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তার আন্তর্জাতিকভাবে নথিবদ্ধ প্রমাণ রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের অবস্থান প্রসঙ্গে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর (OHCHR) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে সাবেক সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস উপাদানের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদনে এসব ঘটনায় সম্ভাব্য নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে; সরাসরি “আওয়ামী লীগ গণহত্যা চালিয়েছে”—এমন ভাষায় জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

‘জামায়াতের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ফেরা’

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে—এমন অভিযোগও করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি রাষ্ট্রের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে।

সম্প্রতি জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকায় কর্মসূচি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছে। জোটের পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য হিসেবে জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং সংকট সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, রাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরি হলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন জামায়াত কতদিনে এবং কতটা রাষ্ট্রকে অশান্ত করতে পারে।

জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘চক্রান্ত’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাশেদ খাঁনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর বক্তব্য, শহীদ আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়তে চায়।

তিনি বলেন, ভারত শেখ হাসিনা এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন না করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না।

বাংলাদেশ এর আগে ভারতকে শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাদী হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও ঢাকার আলোচনায় রয়েছে।

রাশেদ খাঁনের ভাষায়, বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় “সম্মান ও মর্যাদার” ভিত্তিতে।

আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত

কবর জিয়ারতের সময় রাশেদ খাঁনের সঙ্গে ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *