মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রংপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার (১২ আগস্ট) নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনো এলাকার মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবে—তার সঙ্গে সরকারি উন্নয়নকে যুক্ত করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
আরও পড়ুন : আসছে চার লংমার্চ, দেশজুড়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের
যে বক্তব্য ঘিরে ক্ষোভ
রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গত রোববারের এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, রংপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপি সরকারে থাকলে রংপুরের মানুষ কেন জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ভোট দেয়—এমন প্রশ্ন তোলেন।
আরও পড়ুন – ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যমঞ্চ থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু: মির্জা ফখরুলের উত্থানের গল্প
মন্ত্রীর বক্তব্যের ওই অংশ নিয়েই আপত্তি জানায় জামায়াত।
দলটির নেতাদের বক্তব্য, ভোট দেওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন বা আনুগত্যকে উন্নয়ন পাওয়ার শর্ত হিসেবে দেখানো উচিত নয়।
নগরজুড়ে মিছিল, পরে সমাবেশ
বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির নেতারা।
‘রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়ন নয়’
এ টি এম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার কারণেই অঞ্চলটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছে।
তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে।
জামায়াত নেতা বলেন, জনগণ কোন দলকে ভোট দেবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সরকারের দায়িত্ব হলো দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের জন্য ন্যায্য অধিকার ও সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
রংপুরের জন্য যেসব দাবি
সমাবেশ থেকে রংপুরের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
- শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন
- যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন
- তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন
একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনও করে জামায়াত
বিক্ষোভের এক দিন আগে মঙ্গলবার রাতে রংপুর বিভাগের জামায়াতের ১১ সংসদ সদস্য মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সেখানেও তারা বলেন, কোনো অঞ্চলের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে, সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে সরকারি উন্নয়নকে শর্তযুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ফলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রংপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এখন মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
