ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ১৩ বিদেশি নেতার ইনফোগ্রাফিক ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
১২ জুলাই ২০২৬ | তেহরান | TheBuzzLens
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর প্রতিশোধের অঙ্গীকার ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার দেশটির প্রভাবশালী রক্ষণশীল দৈনিক হামশাহরি অনলাইনে এমন একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি দেখানো হয়েছে। প্রকাশিত এই তালিকা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিশোধের বার্তার পর প্রকাশিত তালিকা
শনিবার প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া “জাতির ইচ্ছা” এবং এটি বাস্তবায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একটি তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা শান্তিপূর্ণ মৃত্যু কামনা করলেও তা পূরণ হবে না। তবে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করেননি।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তেহরানের পৌর কর্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্ট হামশাহরি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ১৩ বিদেশি নেতার ছবি সম্বলিত একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশিত হয়। তবে এটি ইরানের সরকার বা সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইনফোগ্রাফিকটি পরদিনের মুদ্রিত সংস্করণেও প্রকাশিত হয়নি।
কারা রয়েছেন তালিকায়?
প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio, প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron, ইতালির প্রধানমন্ত্রী Giorgia Meloni এবং জার্মানির চ্যান্সেলর Friedrich Merz-এর ছবি দেখা যায়। আরও কয়েকজন বিদেশি কর্মকর্তার ছবিও সেখানে ছিল।
ইউরোপের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ
ইরান অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও অন্যান্য সামরিক সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল। তেহরানের দাবি, এ কারণে তারা সংঘাতে পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানও রয়েছে।
বাড়ছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইনফোগ্রাফিক আনুষ্ঠানিক সরকারি নথি না হলেও এর প্রকাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পর্যায়েও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
💬 আপনার মতামত জানান
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই তালিকা কি শুধু রাজনৈতিক বার্তা, নাকি এটি ভবিষ্যৎ উত্তেজনার ইঙ্গিত? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇
