চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাপে কাটার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৩ জুলাই ২০২৬ | চট্টগ্রাম | TheBuzzLens
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় এবার দেখা দিয়েছে নতুন এক উদ্বেগ। পানিবন্দি জনপদে আশ্রয় নিয়েছে সাপ, আর তাতেই বেড়েছে সাপে কাটার ঘটনা। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৮৫ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বন্যার সঙ্গে বাড়ছে সাপের উপদ্রব
চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র, বসতবাড়ি ও উঁচু স্থানে উঠে আসছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসা নেওয়া ৮৫ জনের মধ্যে তিনজনকে বিষধর সাপ কামড়েছে। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাকি ৮২ জনকে বিষহীন সাপ কামড়েছে বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে এবং তাঁরা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্যাদুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) মজুত রাখা হয়েছে। হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
স্বাস্থ্য বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের কিছু সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে—
পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে স্থান পরীক্ষা করুন।
রাতে টর্চলাইট ব্যবহার করুন।
ঘর ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
বাংলাদেশে কী প্রভাব?
প্রতি বছর বর্ষা ও বন্যার সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
💬 আপনার মতামত জানান
আপনার এলাকায় বন্যার কারণে সাপের উপদ্রব বেড়েছে কি? এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করেন? কমেন্টে জানান। 👇
