Spot market-এ বাড়তি দামে LNG কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বাজলেন্স ডেস্ক
বাংলাদেশের LNG supply chain এখন এমন এক চাপের মধ্যে পড়েছে, যেখানে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে দ্রুত কার্গো কিনতে গিয়ে আন্তর্জাতিক benchmark-এর তুলনায় বেশি দাম দিতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে তিনটি LNG cargo কিনতে যে দর পাওয়া গেছে, সেগুলো JKM মূল্যায়নের চেয়ে বেশি—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সূত্রটির হিসাবে, তিন কার্গোতেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
ঘটনাটি শুধু তিনটি কার্গোর বাড়তি দামেই সীমাবদ্ধ নয়। Middle East conflict, Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচলের বাধা এবং বৈশ্বিক LNG supply chain-এর অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের procurement strategy-কে আরও কঠিন করে তুলেছে। QatarEnergy-ও বাংলাদেশের LNG সরবরাহে force majeure বাড়িয়েছে এবং Hormuz দিয়ে shipping সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
আরও পড়তে পারেন : গ্যাস সংকট এক–দেড় সপ্তাহে কাটার আশা, পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটও
তিন কার্গোর দর যেখানে উঠেছে
সরকার সম্প্রতি তিনটি LNG cargo আন্তর্জাতিক RFQ প্রক্রিয়ায় কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য Aramco Trading Singapore-এর দর প্রতি MMBtu 27.54 ডলার। ১-২ অক্টোবরের cargo-টির জন্য BP Singapore-এর দর 28.03 ডলার। আর ৫-৬ অক্টোবরের cargo-এর জন্য Vitol Asia-এর দর 26.6688 ডলার।
অন্যদিকে একই সময়ে JKM benchmark-এর সঙ্গে তুলনা করলে এসব দর উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য সমস্যা শুধু LNG-এর আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে যাওয়া নয়। Spot market-এ খুব অল্প সময়ের মধ্যে cargo সংগ্রহের প্রয়োজন হওয়ায় procurement cost আরও বাড়ছে—এমন ব্যাখ্যাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দিয়েছেন।
আরও পড়তে পারেন : ‘গ্যাস নেই, বিল নেই; সেবা নেই, কর নয়’: রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
JKM-এর চেয়ে কম দামে কেনা গেল আরেক কার্গো
চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয় একই সময়ের একটি short-term purchase দেখলে।
Aramco Trading Singapore-এর কাছ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য আরেকটি LNG cargo 23.98 ডলার/MMBtu দরে কেনার অনুমোদন হয়েছে। এটি বিদ্যমান Short-Term LNG Sale and Purchase Agreement-এর আওতায় অতিরিক্ত quantity হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ একই বাজার পরিস্থিতিতেও contract-based procurement এবং spot procurement-এর দরে পার্থক্য থাকছে।
এখানেই বাংলাদেশের LNG procurement-এর বড় দুর্বলতাটি সামনে আসে। যখন দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় cargo পাওয়া যাচ্ছে, তখন তুলনামূলকভাবে কম দামে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে spot market-এর ওপর নির্ভর করতে হলে দর অনেক ওপরে উঠে যাচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন : ‘ছয় মাসের লুটপাটে বিএনপি সরকার চোরাবালিতে’: সারজিস
কেন spot market-এ এত চাপ?
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ এখন energy geopolitics।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে Qatar ও Oman-এর মতো সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি LNG delivery ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় Gulf LNG-এর আন্তর্জাতিক supply chain-এও চাপ তৈরি হয়েছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Hormuz-সংকটের কারণে Qatar ও UAE থেকে LNG পরিবহনে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশও এই ধাক্কা থেকে বাদ পড়েনি। QatarEnergy বাংলাদেশের LNG সরবরাহের force majeure সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে।
ফলে Asian LNG market-এ একই cargo-এর জন্য প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বাংলাদেশকে তখন শুধু দাম নয়, cargo availability, delivery window এবং shipping risk—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।
Supply chain সংকটের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে
বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার বড় অংশ আমদানি করা LNG দিয়ে পূরণ করতে হয়। Petrobangla-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে LNG আমদানি শুরু হয় ২০১৮ সালে; পরে ২০২০ সালে spot market থেকেও cargo কেনা শুরু হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় spot procurement-এর ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি LNG cargo দেশে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার; এর মধ্যে আটটির ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং বাকি দুটির জন্য tender process চলছিল বলে ১ সেপ্টেম্বর Petrobangla-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।
এই ব্যবস্থার অর্থ হলো—বাংলাদেশকে শুধু সস্তা LNG খুঁজলেই হবে না। নির্দিষ্ট সময়ে cargo দেশে পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে।
সেখানেই Supply Chain-এর চাপ।
ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও cargo দরকার
জ্বালানি বিভাগ ও Petrobangla আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত LNG সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও cargo সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা হলো, যতটা সম্ভব দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে LNG সংগ্রহ করা। চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া না গেলে শেষ বিকল্প হিসেবে spot market-এ যেতে হবে।
কারণ spot market-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দাম ও supply—দুটিই একসঙ্গে অনিশ্চিত।
একটি cargo-এর জন্য tender যখন কয়েক সপ্তাহ বা তারও কম সময়ের মধ্যে করতে হয়, তখন supplier-এর সংখ্যা সীমিত হয়ে আসে। ফলে competitive pressure কমে যেতে পারে এবং bidder-রা নিজেদের ঝুঁকি দামের মধ্যে যোগ করতে পারে—এমন ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
কেন আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সবসময় আগ্রহ দেখাচ্ছে না?
বাংলাদেশের LNG procurement-এ আরেকটি technical constraint রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে LNG-এর heating value এবং composition-এর যে range প্রচলিত, বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহের জন্য imported LNG-কে স্থানীয় গ্যাসের সঙ্গে নির্দিষ্ট মানের মধ্যে রাখতে হয়। ফলে সব supplier-এর LNG বাংলাদেশের grid specification-এর সঙ্গে সহজে মেলে না—এমন ব্যাখ্যা জ্বালানি বিভাগকে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ কারণে supplier pool ছোট হয়ে গেলে spot tender-এ প্রতিযোগিতাও কমতে পারে।
অর্থাৎ সমস্যা শুধু LNG price নয়। বাংলাদেশের procurement system-এর technical requirement, delivery window এবং আন্তর্জাতিক shipping পরিস্থিতিও দামকে প্রভাবিত করছে।
সরকার এখন বিকল্প supplier খুঁজছে
বাড়তি দামে spot LNG কেনা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাপানের JERA, দক্ষিণ কোরিয়ার POSCO, ইন্দোনেশিয়ার Pertamina এবং সৌদি আরবের Aramco-এর মতো কোম্পানির সঙ্গে সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
লক্ষ্য হচ্ছে JKM benchmark-এর তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক দরে LNG supply নিশ্চিত করা এবং দ্রুত payment-এর মতো সুবিধা দিয়ে supplier-দের আগ্রহী করা।
তবে আগামী তিন মাসের জন্য স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে এখনো পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Hormuz Strait থেকে Bay of Bengal—প্রভাবের পথটি কোথায়?
এখানে Hormuz Strait-এর গুরুত্ব সরাসরি বাংলাদেশের LNG procurement-এর সঙ্গে যুক্ত।
উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে LNG Asia-র বাজারে আসার পথে maritime shipping একটি গুরুত্বপূর্ণ link। Hormuz-এ বাধা তৈরি হলে শুধু Gulf-এর উৎপাদন নয়, cargo movement, vessel availability, insurance risk এবং delivery schedule—সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে।
তারপর সেই চাপ ছড়িয়ে পড়ে Asian LNG market-এ।
শেষ পর্যন্ত Bay of Bengal-এর তীরে থাকা বাংলাদেশকেও বেশি দামে cargo কিনতে হয়।
এটাই বর্তমান energy geopolitics-এর বাস্তব চিত্র—একটি অঞ্চলের সংঘাত হাজার মাইল দূরের একটি দেশের বিদ্যুৎ, শিল্প ও আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
Global South-এর জন্য বড় সতর্কতা
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাটি বৃহত্তর Global South-এর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো যখন জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়ে, তখন শুধু commodity price নয়, foreign exchange, subsidy এবং overall energy security-ও চাপে পড়ে।
LNG-এর দাম যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে—সাম্প্রতিক কয়েকটি cargo-র ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দাম ২৪-২৮ ডলার/MMBtu-এর কাছাকাছি উঠেছে। আগস্টের শেষ দিকে অনুমোদিত দুটি cargo-র দামও ২৪ ডলারের ওপরে ছিল, যা যুদ্ধের আগে বাংলাদেশের সাধারণ spot purchase-এর তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
ফলে LNG এখন শুধু জ্বালানি আমদানির বিষয় নয়; এটি energy security, fiscal pressure এবং supply-chain resilience-এর প্রশ্নও।
সামনে বাংলাদেশের কৌশল কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে মূলত তিনটি পথ দেখা যাচ্ছে।
প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ LNG নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়ত, short-term agreement ব্যবহার করে spot market-এর তুলনায় কম ঝুঁকিতে cargo সংগ্রহ করা।
তৃতীয়ত, spot market-কে শেষ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা—বিশেষ করে যখন সরবরাহ ঘাটতি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা জরুরি।
কারণ বর্তমান বাজারে শুধু কম দাম পেলেই হবে না। সময়মতো cargo পাওয়া, নিরাপদ shipping route, supplier diversification এবং দীর্ঘমেয়াদি supply security—সবগুলো একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ কথা
তিনটি LNG cargo-তে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগটি তাই একটি বড় সমস্যার ছোট ছবি। মূল সংকটটি আরও গভীরে—বাংলাদেশের LNG supply chain এখন বৈশ্বিক বাজার, Middle East conflict, Hormuz Strait, Asian demand এবং domestic gas shortage—সবকিছুর সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্ববাজার স্থিতিশীল না হলে শুধু spot tender দিয়ে এই চাপ সামলানো কঠিন হবে। তাই বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে supplier diversification, contract-based procurement এবং দীর্ঘমেয়াদি energy security।
আর এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—জ্বালানি বাজারে কোনো দেশই এখন আর শুধু নিজের দেশের দামের ওপর নির্ভর করতে পারে না। Geopolitics থেকে shipping route, shipping route থেকে supply chain, আর supply chain থেকে সরাসরি বাংলাদেশের LNG bill—সবকিছু একই সুতোয় বাঁধা।
আরও পড়তে পারেন –
LNG কী? Liquefied Natural Gas কীভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্য বদলে দিয়েছে?
Energy Geopolitics কী? তেল-গ্যাস কীভাবে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে?
Strait of Hormuz কী? বিশ্বের জ্বালানি রাজনীতিতে এই সরু জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
