ইরান প্রসঙ্গে নতুন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
১১ জুলাই ২০২৬ | ওয়াশিংটন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যদি ইরানের কোনো হামলায় নিহত হন, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে “আগে কখনও দেখা যায়নি”—এমন মাত্রার সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ আগেই দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা।
ট্রাম্প কী বলেছেন?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করেন যে ইরান তাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে। তার ভাষায়, যদি তার সঙ্গে “কিছু ঘটে”, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রার সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ আগেই দেওয়া আছে।
পরবর্তীতে Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টেও তিনি ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন।
কেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার কথা বলছেন ট্রাম্প?
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, তিনি ইরানের “হিটলিস্টে” রয়েছেন। ন্যাটো সম্মেলনেও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বহু বছর ধরেই তিনি ইরানের প্রধান লক্ষ্য বলে বিশ্বাস করেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ট্রাম্পের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সতর্কবার্তা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট :
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এ ধরনের সতর্কবার্তা তার কাছে নতুন নয় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই একই ধরনের হুমকির কথা শুনে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে?
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প এর আগে ন্যাটো সম্মেলনেও ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে নতুন সামরিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে কী প্রভাব?
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও পরিস্থিতির পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নতুন অর্থনৈতিক প্রভাবের ঘোষণা আসেনি।
💬 আপনার মতামত জানান
ট্রাম্পের এই বক্তব্য কি কেবল কূটনৈতিক বার্তা, নাকি এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇
