পুঞ্জীভূত লোকসান পরিশোধিত মূলধন ছাড়িয়ে যাওয়ায় সিঙ্গার বাংলাদেশকে 'জেড' ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে।
১২ জুলাই ২০২৬ | ঢাকা | TheBuzzLens
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী শেয়ারকে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণের সুবিধা পাবেন না।
কেন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে গেল সিঙ্গার?
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির ২০২৪ সালের ২০ মে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান যদি পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই কোম্পানির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে হবে।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ হিসাব বছর শেষে সিঙ্গার বাংলাদেশের পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ৪ লাখ টাকার বেশি, যেখানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
এক বছরে লোকসান বেড়ে কয়েক গুণ
২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ২২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লোকসানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান (EPS) বেড়ে ২২ টাকা ৫৬ পয়সা হয়েছে, যেখানে আগের বছর ছিল ৪ টাকা ৯১ পয়সা। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAVPS) নেমে এসেছে মাত্র ১ টাকা ৬৯ পয়সায়।
লভ্যাংশ নেই, বদলে গেল আর্থিক চিত্র
২০২৫ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র এক বছর আগেও অর্থাৎ ২০২৪ হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশ ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তারও আগে ২০২৩ সালে বিনিয়োগকারীরা পেয়েছিলেন ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী অর্থ?
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যাওয়ার ফলে এখন থেকে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের সুবিধা মিলবে না। সাধারণত এই ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ভবিষ্যতে কোম্পানিটির আর্থিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের দিকেই এখন নজর থাকবে বিনিয়োগকারী এবং বাজার বিশ্লেষকদের।
💬 আপনার মতামত জানান
সিঙ্গার বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতি কি সাময়িক সংকট, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির ইঙ্গিত? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇
