টানা ছয় দিনের পতনের পর বৃহস্পতিবার DSE-এর প্রধান সূচকে উত্থান দেখা গেছে।
২২ আগস্ট ২০২৬ : অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
টানা ছয় কার্যদিবসের পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় প্রধান সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে সূচকের এই স্বস্তির বিপরীতে লেনদেন নেমে গেছে সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
দিন শেষে DSE-তে ১৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১২৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ৭১টির দর। অর্থাৎ পতনের ধারাবাহিকতা ভাঙলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখনো সীমিত।
আরও পড়তে পারেন : কারখানায় তালা, মালিকানাতেও বদল নেই—তবু শেয়ারে এত বড় উত্থান কেন?
শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান, কিন্তু গতি কম লেনদেনে
বৃহস্পতিবারের লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দর কমে যায়। তবে দিনের পরবর্তী সময়ে ক্রয়চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি সংখ্যক কোম্পানির দর নিয়েই লেনদেন শেষ হয়।
এর ফলে DSE-এর প্রধান সূচক DSEX আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। একইসঙ্গে DSE Shariah Index ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে উঠেছে।
অন্যদিকে, বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত DSE-30 সূচক ০.৪৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে নেমেছে। ফলে বাজারের সামগ্রিক সূচকে স্বস্তি এলেও বড় ও নির্বাচিত কোম্পানির শেয়ারে একই মাত্রার শক্তি দেখা যায়নি।
আরও পড়তে পারেন : রেকর্ড ডেট কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড
লেনদেন কমে সাড়ে চার মাসের সর্বনিম্ন
তবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এসেছে লেনদেনের পরিমাণে। DSE-তে বৃহস্পতিবার মোট ৬৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এটি চলতি বছরের ৭ এপ্রিলের পর DSE-তে সর্বনিম্ন লেনদেন। ওই দিন বাজারে ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। ফলে সূচকের উত্থানকে সরাসরি শক্তিশালী buying momentum হিসেবে দেখার আগে লেনদেনের দুর্বলতাটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন : বেক্সিমকোর ১৮৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন
কোন শেয়ারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন?
বৃহস্পতিবার DSE-এর trading volume-এ সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এরপর রয়েছে টেকনো ড্রাগস। কোম্পানিটির শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের লেনদেন ছিল ১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় ছিল শিকদার ইন্স্যুরেন্স, রানার অটোমোবাইল, সাউথইস্ট ব্যাংক, এনভয় টেক্সটাইল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।
আরও পড়তে পারেন : গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য হালনাগাদের নির্দেশনা: বিনিয়োগকারীদের জন্য যা জানা জরুরি
ভালো মানের শেয়ারেই ছিল তুলনামূলক বেশি দরবৃদ্ধি
বৃহস্পতিবারের বাজারচিত্রে ভালো মানের বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তুলনামূলক শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখা গেছে।
এই শ্রেণির ১১৯টি কোম্পানির দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৫২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দর।
অন্যদিকে, ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে। তবে ৩৭টির দর কমেছে এবং ৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ‘জেড’ গ্রুপের ৪২টি কোম্পানির দর বেড়েছে। কমেছে ৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির দর। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও ছিল ইতিবাচক চিত্র। ১৭টি ফান্ডের দর বাড়লেও কমেছে মাত্র ২টির; অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির।
CSE-তে অবশ্য চিত্র ছিল উল্টো
প্রধান শেয়ারবাজার DSE-তে সূচক বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (CSE) পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সেখানে দরপতনের তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা ছিল বেশি।
CSE-তে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ৮৭টির দর কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
ফলে CSE-এর সার্বিক মূল্যসূচক CASPI ২ পয়েন্ট কমেছে। একইসঙ্গে বাজারটির লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকায় নেমেছে। আগের কার্যদিবসে CSE-তে লেনদেন হয়েছিল ৩৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
সূচকের স্বস্তি, কিন্তু বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে প্রশ্ন
টানা ছয় দিনের পতনের পর DSE-এর সূচক ঘুরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে বাজারের জন্য স্বস্তির খবর। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এই উত্থানের স্থায়িত্ব নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
কারণ, price recovery-এর সঙ্গে যদি trading volume এবং broad-based buying সমানভাবে না বাড়ে, তাহলে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো কতটা শক্তিশালী, সেটি পরবর্তী কয়েকটি কার্যদিবসের গতিপ্রকৃতির ওপরই বেশি নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্রঃ
