রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা, চাচা ও অভিযুক্ত খুনির ফাইল ফটো
২৯ আগস্ট, ২০২৬ | বাজলেন্স ডেস্ক
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বিকেলে বিনয় দাস ও পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। পুলিশ তাদের নিয়ে আসায় পরে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পরতে পারেন : ‘স্যার’ ও ‘কাকি’ ডাকত যারা, তারাই একে একে চারজনকে হত্যা: এরপর খেজুর-শসা খাওয়ার দাবি পুলিশের
চারজনের মরদেহ উদ্ধার
গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গণপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তার মেয়ে আগামী স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ছেলে প্রীয়ম পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।
এ ঘটনায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে পরদিন কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
আরও পরতে পারেন : পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময় গায়ে ছিল গেঞ্জি, পরে শার্ট: সিদ্ধার্থের বাবা
গ্রেপ্তার দুই তরুণের স্বীকারোক্তি
মামলার পর একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর মঙ্গলবার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে মুগ্ধ, সিদ্ধার্থ ও সীমান্ত একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
আরও পরতে পারেন : রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: পুলিশের ব্যাখ্যায় আস্থা নেই স্বজন-স্থানীয়দের
ছাদ ধোয়া নিয়ে প্রশ্ন
চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মধ্যে বুধবার রাতে সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস আলামত নষ্টের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছাদ ধোয়া হয়নি। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় পানির ট্যাংক উপচে ছাদ ভিজে যায়।
এর মধ্যেই সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে ডিবিতে ডেকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পরতে পারেন : রংপুরে চার হত্যা: ‘মা-মেয়েকে ধর্ষণের আলামত’ ডোমের বয়ানকে ভুল বলছেন চিকিৎসক
