লক্ষ্মীপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে বক্তব্য দেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | বাজলেন্স ডেস্ক
বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে বা ‘হুংকার’ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর ভাষায়, বিএনপি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে উঠে আসা দল।
শনিবার সন্ধ্যার আগে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত আনন্দ র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ্যানি বলেন, বিএনপিকে হুংকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দলটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ঐতিহ্যের দল। তাই ভয় দেখানো কিংবা অরুচিশীল বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ হবে না।
আরও পড়তে পারেন : আঘাত করলে পালটা আঘাত: বিএনপিকে নাহিদের হুঁশিয়ারি
বিএনপিকে ‘হুংকার’ না দেওয়ার আহ্বান
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাজপথ থেকে উঠে এসেছে। গত ১৭ বছর দলটি লড়াই করেছে এবং জনগণের রায় নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে মূলত বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস এবং বর্তমান সরকারের বৈধতা—দুই বিষয়ই উঠে আসে। একইসঙ্গে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস না পেরোতেই নতুন করে আন্দোলন শুরু করার সমালোচনাও করেন তিনি।
এ্যানি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এখনও ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই আন্দোলন শুরু করা ঠিক নয়।
আরও পড়তে পারেন : ‘গ্যাস নেই, বিল নেই; সেবা নেই, কর নয়’: রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
১১ দলীয় জোটের লংমার্চ নিয়েও আক্রমণ
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, কর্মসূচিটিতে সাধারণ মানুষের সাড়া ছিল না।
এ্যানি বলেন, জনগণ ওই লংমার্চ গ্রহণ করলে সেখানে মানুষের উপস্থিতি ও সাড়া দেখা যেত। তাঁর ভাষ্য, কর্মসূচিতে মূলত ‘চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি’ অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন যারা প্রকাশ্যে ছিল না, তাদের কর্মী বা চিহ্নিত ব্যক্তিদের দিয়ে লংমার্চ করে জনগণের সমর্থন প্রমাণ করা যায় না।
আরও পড়তে পারেন : ‘২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’: শফিকুর রহমান
জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে বার্তা
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, উস্কানিমূলক ‘হুংকার’ ও বক্তব্য জনগণ পছন্দ করে না। তাঁর দাবি, জনগণ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করলে তার স্বাভাবিক প্রতিফলন কর্মসূচির মাঠে দেখা যায়।
এরপর জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। দলটির বিরুদ্ধে দেশের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর ভূমিকার অভিযোগ তুলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তবে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে এ্যানির এসব মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন। বক্তব্যের মধ্যে করা অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
লক্ষ্মীপুরের ওই কর্মসূচিতে এ্যানির বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি, নতুন করে আন্দোলনের উদ্যোগ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—বিএনপিকে চাপ বা হুমকি দিয়ে রাজপথের রাজনীতি থেকে সরানো যাবে না।
আরও পড়তে পারেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দিতে না পারলে শাহবাগ-পল্টনের প্রসঙ্গ আনেন: সারজিস
