মানিলন্ডারিং মামলায় সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার হন গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস!
জুলাই ১৩ | গাইবান্ধা | TheBuzzLens Desk
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান।
পুলিশ জানায়, ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে হরিদাস চন্দ্রকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তার বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি মানিলন্ডারিং মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে রাতেই ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, সিআইডির অভিযানে স্থানীয় পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সিআইডি পরিচালনা করবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, হরিদাস চন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই নানা কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আলোচিত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
এর আগে ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর ভুয়া কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে তিনি আবারও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে। এছাড়া সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেছেন বলেও জানা গেছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি নতুন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মানিলন্ডারিং মামলায় তার গ্রেপ্তারের ঘটনা নতুন করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আইন অনুযায়ী প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
