খুচরা টাকা না থাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ যাত্রীর বেশে থাকা কর্ণাটকের পরিবহণমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশকে
১৩ জুলাই | কর্ণাটক |আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পরিচয় গোপন করে সাধারণ মানুষের মতো গণপরিবহনের বাস্তব চিত্র দেখতে বেরিয়েছিলেন ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী। কিন্তু বাসে উঠে এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যা মুহূর্তেই দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ভাড়া দেওয়ার সময় খুচরা টাকা না থাকায় কন্ডাক্টর তাকে টিকিট দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং শেষ পর্যন্ত বাস থেকেই নেমে যেতে বলেন। পরে জানা যায়, সেই যাত্রীই ছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১১ জুলাই) মুখে মাস্ক পরে প্রায় দুই ঘণ্টা বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন রুটে ১০টিরও বেশি বিএমটিসি (BMTC) বাসে সাধারণ যাত্রীর বেশে ভ্রমণ করেন মন্ত্রী। তার উদ্দেশ্য ছিল গণপরিবহনের প্রকৃত সেবা, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং কর্মীদের আচরণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা।
পরিদর্শনের সময় তিনি একাধিক অনিয়ম চোখে দেখেন। একটি বাসে এক যাত্রী নির্ধারিত স্টপেজে নামার সংকেত দিলেও চালক বাস না থামিয়ে চলে যান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে হেব্বাল–নাগাশেট্টিহাল্লি রুটের একটি বাসে। সেখানে টিকিট কাটতে গিয়ে তিনি কন্ডাক্টরের হাতে ১০০ রুপির নোট দেন। কিন্তু খুচরা টাকা নেই জানিয়ে কন্ডাক্টর টিকিট দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। তখনও কেউ বুঝতে পারেননি, তিনি রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী।
এ সময় মন্ত্রী শহরের আরেকটি ঘটনায়ও হস্তক্ষেপ করেন। একটি অটোরিকশা চালক মিটারে ৩০ রুপি ভাড়া দেখালেও যাত্রীর কাছে ৩৬ রুপি দাবি করছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
অভিযান শেষে পরিবহণমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ বলেন, গণপরিবহনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা জানার জন্য কখনো কখনো পরিচয় গোপন করে মাঠে নামাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কন্ডাক্টরের আচরণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে সমালোচনা করলেও, কেউ কেউ বলছেন—এই ঘটনাই প্রমাণ করেছে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিন কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। ভারতের গণপরিবহন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরায় মন্ত্রীর এই উদ্যোগও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
h
