জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই; সীমান্তে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তারা দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে কঠোর বক্তব্য
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরে বসে আত্মসমর্পণের হুঙ্কার দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আইনের দৃষ্টিতে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ফলে বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে আর কখনোই আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি হুমকি ও উসকানির বিপরীতে দেশের মানুষ আরও ঐক্যবদ্ধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে অগ্রগতির তথ্য
সংসদে বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ তিনটি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে শতাধিক মামলা
আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়া মোট ৫৯০টি অভিযোগের মধ্য থেকে ১০৯টি মামলা বাছাই করেছে প্রসিকিউশন টিম।
এর মধ্যে—
🔸৪৩টি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে।
🔸৬টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
🔸১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
🔸১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
🔸৩৫ জন বিভিন্ন মেয়াদের সাজা পেয়েছেন।
🔸একজন রাজসাক্ষীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আরও ৪টি মামলার রায় অপেক্ষমাণ।
এছাড়া শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে অভিযোগ এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান
বক্তব্যে আইনমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি না করার আহ্বান জানান।
তিনি একটি তুর্কি লোককবিতার উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। গণভোট বা রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি না করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের অর্থ হলো—কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।
জোটসঙ্গীদের উদ্দেশে বার্তা
রাজনৈতিক মিত্রদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে অনেক রাজনৈতিক দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, বিএনপির সঙ্গে থাকা জোটসঙ্গীরা রাজনৈতিক মর্যাদা পেয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাওয়ার পরিণতি ছিল ভিন্ন। তাই অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
