এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
২৬ আগস্ট, ২০২৬ : বাজলেন্স ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ছাড়ছে—এমন গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এনসিপির জোট ছাড়ার বিষয়টি তাদের বা এনসিপির কারও রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়তে পারেন : ‘২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’: শফিকুর রহমান
‘এনসিপিরও এজেন্ডা না, আমাদেরও না’
এনসিপির সম্ভাব্য জোটত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি এনসিপিরও এজেন্ডায় নেই এবং তাদেরও নয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া–পড়শির ঘুম নাই—এ রকম আরকি বিষয়টা।’
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিপির জোট ছাড়ার আলোচনা মূলত রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া গুঞ্জন। বাস্তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে না।
আরও পড়তে পারেন : ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে দেরি কেন?’—সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
নির্বাচনী সমঝোতা, স্থায়ী জোট নয়
জামায়াত আমির স্পষ্ট করেন, ১১ দলের বর্তমান সমঝোতাকে স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা।
তবে বর্তমানে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবিতে দলগুলো যুগপৎভাবে রাজপথে আন্দোলন করছে বলেও জানান তিনি।
অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, চারদলীয় ঐক্যজোট একসময় ১৮, পরে ২০ এবং শেষ পর্যন্ত ২৭ দলের সমন্বয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যেক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।
তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিদ্যমান ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
আরও পড়তে পারেন : দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সরবরাহে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম
গঠিত হবে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’
সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের একটি দক্ষ ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু হয়েছে। শুধু শরিক দলগুলোর যোগ্য নেতাদের নিয়ে নয়, দেশ-বিদেশে থাকা অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদেরও এতে যুক্ত করা হবে।
তাঁর ভাষায়, তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতার ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
আরও পড়তে পারেন : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না’: নাহিদ ইসলাম
বিরোধীদলীয় আসনে বৈষম্যের অভিযোগ
এ সময় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির।
তিনি দাবি করেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ কম দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারদলীয় নেতাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলেছেন, জামায়াতকে ভোট দিলে উন্নয়ন ক্ষমতাসীনদের কাছে চাওয়া যাবে না।
শফিকুর রহমান এর সমালোচনা করে বলেন, সাংবিধানিকভাবে উন্নয়ন কোনো অনুকম্পা নয়। এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।
এ ছাড়া সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিরোধীদলীয় আসনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
আরও পড়তে পারেন : জামায়াত ফ্যাসিস্ট হবে? সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড়: নুর
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নেও সরকার উদাসীনতা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
তাঁর অভিযোগ, সরকার সংকট সমাধানের পথ এড়িয়ে যাওয়ায় বিরোধীদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
‘ঐক্য অটুট থাকবে’: নাহিদ ইসলাম
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সামগ্রিক বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে তাদের ঐক্য অটুট থাকবে।
দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জনস্বার্থে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমিরের এনসিপি জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করার মধ্য দিয়ে দুই দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতা আপাতত অটুট থাকার বার্তাই সামনে এসেছে।
