ইরান যুদ্ধের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সিনেটে বক্তব্য দেন পিট হেগসেথ।
ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় বেড়ে ৩৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কংগ্রেস দ্রুত অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদন না দিলে সামরিক প্রশিক্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যয় বেড়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলার
হেগসেথ সিনেটের বরাদ্দবিষয়ক কমিটির শুনানিতে জানান, মে মাসের সর্বশেষ হিসাবের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান হিসাবের মধ্যে ইতোমধ্যে হওয়া ব্যয়ের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য কিছু পরিচালন ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৮৭ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া
প্রতিরক্ষা দপ্তরের জন্য কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮৭.৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনা, গোলাবারুদ পুনরায় মজুত এবং বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হেগসেথ বলেন, এই অর্থ অনুমোদন না হলে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সীমিত করা, অস্ত্র মজুত পুনর্গঠনে বিলম্ব এবং সামরিক প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন, তখন যুদ্ধের জন্য আরও বিপুল অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের একাংশও ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ প্রস্তাব দেন, অতিরিক্ত সামরিক ব্যয় মেটাতে অন্য খাতের ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
বিক্ষোভে বাধাগ্রস্ত শুনানি
সিনেটের শুনানি চলাকালে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা একাধিকবার বাধা দেন। তারা ইরান ও ফিলিস্তিনে বোমা হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। পরিস্থিতির মধ্যেও হেগসেথ তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অপরিহার্য।
উপসংহার
ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব কংগ্রেসে অনুমোদন পাবে কি না, তা এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং এর কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।
💬 আপনার মতামত জানান:
যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সামরিক ব্যয় কি প্রয়োজনীয়, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার?
গুরুত্বপূর্ণ লিংক সমূহ :
