বাংলাদেশে গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক জিপিএস সংযুক্তির প্রতীকী ছবি

জিপিস সংযুক্ত না থাকলে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না।

আজ (১ আগস্ট) থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্তি ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে বিআরটিএ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জিপিএস না থাকলে নতুন রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ দেওয়া কিংবা নবায়ন করা হবে না। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণপরিবহনের অবস্থান, গতি ও রুট পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, সব যানবাহনে একযোগে জিপিএস কার্যকর করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

ঢাকা | ১ আগস্ট ২০২৬


দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযুক্তি ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।


নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ প্রদান কিংবা ফিটনেস নবায়ন করা হবে না।
জিপিএস সংযুক্তির প্রমাণ দেখাতে হবে


বিআরটিএর ২৮ জুলাই প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ গ্রহণ কিংবা নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্তির প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইসটি সচল থাকার তথ্য প্রদর্শন করতে হবে।


সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

শুধু সংযুক্ত করলেই হবে না, সচলও রাখতে হবে

বিআরটিএ জানিয়েছে, শুধু জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করলেই হবে না; সেটি সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস পরীক্ষার জন্য আনার সময় জিপিএস সক্রিয় অবস্থায় রাখার জন্য পরিবহন মালিক ও প্রতিনিধিদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আসার সময়ই জিপিএস সংযুক্ত করে আনতে হবে। একইভাবে ফিটনেস পরীক্ষার সময়ও ডিভাইসটি সক্রিয় থাকতে হবে। এ জন্য বিআরটিএর পক্ষ থেকে জিপিএস সংযুক্তি যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বাস্তবায়নে আরও সময় চায় মালিক সমিতি

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব গণপরিবহনে জিপিএস সম্পূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিপিএস সংযুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব নয়। এজন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

জিপিএস চালুর সম্ভাব্য সুবিধা

সংশ্লিষ্টদের মতে, জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে—

🔹বাসের অবস্থান, গতি ও নির্ধারিত রুট পর্যবেক্ষণ সহজ হবে।
🔹অতিরিক্ত গতি, রুট পরিবর্তন বা অনিয়মিতভাবে যাত্রী ওঠানামার মতো বিষয় নজরদারিতে সহায়তা করবে।
🔹দুর্ঘটনার তদন্তে যানবাহনের অবস্থান, গতি ও চলাচলের তথ্য ব্যবহার করা যাবে।
🔹ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা ও যাত্রীবান্ধব অ্যাপ চালু হলে যাত্রীরা বাসের অবস্থান ও সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানতে পারবেন।
🔹বহর ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয়, রুট নিয়ন্ত্রণ এবং চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
🔹জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
শুধু প্রযুক্তি নয়, দরকার কার্যকর তদারকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। প্রযুক্তির পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, তথ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হলেও একে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দেশে চলাচলকারী বহু মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা কার্যকর হবে, সেটিও বাস্তবায়নের সময় বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের মতে, প্রযুক্তির পাশাপাশি সার্বিক গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *