Global South-এর উত্থান, BRICS, G7, IMF ও WTO ঘিরে বিশ্ব ক্ষমতার পরিবর্তন

BRICS, G7, IMF ও WTO-কে ঘিরে Global South-এর উত্থান বিশ্বব্যবস্থার ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

Global South কি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প তৈরি করছে? BRICS, China, India, Africa, G7, IMF ও ডলারকে ঘিরে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ক্ষমতার সমীকরণ বিশ্লেষণ।

বিশ্ব রাজনীতিতে “Global South” শব্দটি এখন আর শুধু উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি সাধারণ পরিচয় নয়। এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কূটনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এর পেছনে বাস্তব পরিবর্তনও আছে।

এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু অর্থনীতি গত কয়েক দশকে বিশ্ব উৎপাদন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনসংখ্যার দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। UN Trade and Development বা UNCTAD-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলো মিলিয়ে এখন বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্নটি আসে—

এই অর্থনৈতিক উত্থান কি সত্যিই বিশ্বব্যবস্থার ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

নাকি Global South এখনো এমন একটি রাজনৈতিক ধারণা, যার ভেতরে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ এতটাই ভিন্ন যে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হতে পারবে না?

এই প্রশ্নের উত্তর সরল “হ্যাঁ” বা “না” নয়।

বরং Global South-এর উত্থানকে বুঝতে হলে BRICS, G7, IMF, WTO, ডলার, China, India এবং Africa—সবকিছুকে একই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

Global South আসলে কী?

Global South বলতে সাধারণত এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির বিস্তৃত সমষ্টিকে বোঝানো হয়।

তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক জোট নয়। Global South -এর সদস্যদের নিয়ে NATO বা ASEAN -এর মতো কোনো একক প্রতিষ্ঠান নেই। বরং এটি একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক ধারণা।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—“South” শব্দটি কেবল ভৌগোলিক দক্ষিণ বোঝায় না।

চীন যেমন উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত, ভারতও তাই। কিন্তু উভয় দেশকেই সাধারণত Global South -এর গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হয়।

অর্থাৎ এখানে মূল বিষয় হলো উন্নয়নের ইতিহাস, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অবস্থান, ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিন্ন কিছু স্বার্থ।

তাহলে কেন Global South এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

এর প্রথম কারণ অর্থনৈতিক।

একসময় বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং জাপানকেন্দ্রিক উন্নত অর্থনীতিগুলো।

কিন্তু গত কয়েক দশকে চীন, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার কিছু অর্থনীতি বৈশ্বিক উৎপাদন ও বাণিজ্যে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

WTO -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো বৈশ্বিক পণ্য রপ্তানির প্রায় ৪৮ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অর্থাৎ বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ এখন আর শুধু ঐতিহ্যগত Western economies-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

দ্বিতীয় কারণ জনসংখ্যা।

বিশ্বের বিশাল জনগোষ্ঠী Global South-এর দেশগুলোতে বসবাস করে। এর অর্থ হলো ভবিষ্যতের শ্রমবাজার, ভোক্তা বাজার, খাদ্য, জ্বালানি এবং অবকাঠামোর চাহিদার বড় অংশও এই দেশগুলো থেকে আসবে।

তৃতীয় কারণ ভূরাজনীতি।

China, India, Brazil, Saudi Arabia, Indonesia, South Africa এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পশ্চিমা শক্তিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব আগের মতো সহজে ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

BRICS: Global South-এর রাজনৈতিক পরীক্ষা

Global South নিয়ে আলোচনা করতে গেলে BRICS -কে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

Brazil, Russia, India, China ও South Africa দিয়ে শুরু হওয়া BRICS প্রথমদিকে মূলত emerging economies-এর একটি অর্থনৈতিক সমন্বয় হিসেবে আলোচিত হলেও সময়ের সঙ্গে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে।

বিশেষ করে BRICS -এর সম্প্রসারণ Global South -এর আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

BRICS এবং Global South একই জিনিস নয়।

BRICS হলো একটি নির্দিষ্ট বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। Global South তার চেয়ে অনেক বড় ও অস্পষ্ট একটি ধারণা।

তাই BRICS -এর শক্তি বাড়লেই Global South ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

বরং BRICS -কে Global South -এর কিছু দেশের জন্য বিকল্প সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

BRICS কি পশ্চিমা ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি করতে পারবে?

এখানেই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

BRICS -এর মধ্যে অনেক দেশ আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কমানোর কথা বলে। New Development Bank -এর মতো প্রতিষ্ঠানও এই বিকল্প কাঠামোর একটি উদাহরণ।

কিন্তু “বিকল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি” আর “পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি” এক বিষয় নয়।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা অত্যন্ত গভীর ও জটিল। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, capital markets, payment systems, trade finance, reserve assets এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজার—সবকিছু বহু দশকের অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সুতরাং BRICS দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করবে—এমন ধারণা এখনই বাস্তবসম্মত নয়।

তবে BRICS -এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়।

এটি দেখাচ্ছে যে উন্নয়নশীল ও emerging economies নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী নতুন আর্থিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করছে।

ডলার কি সত্যিই Global South-এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?

Global South -এর আলোচনায় “de-dollarization” শব্দটি তাই এত জনপ্রিয়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের ভূমিকা অত্যন্ত শক্তিশালী। বহু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আন্তর্জাতিক ঋণ, পণ্যবাজার এবং cross-border transactions এখনো ডলারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

ফলে কিছু দেশ নিজেদের বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে চায়।

কিন্তু এখানে আবার বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।

ডলারের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করা আর ডলারের কার্যকর বিকল্প তৈরি করা এক নয়।

একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রাকে reserve currency হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুধু রাজনৈতিক ইচ্ছা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন গভীর ও তরল financial markets, আস্থাযোগ্য প্রতিষ্ঠান, ব্যাপক আন্তর্জাতিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

তাই de-dollarization বাস্তব প্রবণতা হলেও “ডলার খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাচ্ছে”—এমন দাবি অতিরঞ্জিত।

বরং বেশি বাস্তবসম্মত পরিবর্তন হতে পারে একটি বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থা, যেখানে ডলারের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহার কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে।

China: Global South-এর নেতা, নাকি নিজের স্বার্থের শক্তি?

Global South -এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো China -এর ভূমিকা।

চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি, উৎপাদনশক্তি এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। Asia, Africa ও Latin America -তে তার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উপস্থিতিও ব্যাপক।

এ কারণে অনেকেই China -কে Global South -এর নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে দেখেন।

কিন্তু “নেতৃত্ব” শব্দটি এখানে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

চীন Global South -এর বহু দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্দর, রেলপথ, জ্বালানি, খনিজ, প্রযুক্তি কিংবা বাজার—সব ক্ষেত্রেই চীনের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শুধু উন্নয়ন সহযোগিতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে Western powers -এর মতো চীনের উত্থানও Global South -এর দেশগুলোর জন্য negotiating space তৈরি করছে।

অর্থাৎ অনেক দেশ এখন একদিকে China, অন্যদিকে United States ও Europe—এই শক্তিগুলোর মধ্যে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভারসাম্য তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছে।

India: Global South-এর অন্য ধরনের শক্তি

China এর পাশাপাশি India -এর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে Global South -এর কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে উন্নয়ন, জলবায়ু অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থকে সামনে আনে।

কিন্তু India -এর ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য।

ভারত Global South -এর অংশ হলেও তার নিজস্ব strategic autonomy, regional interests এবং major-power ambitions রয়েছে।

তাই India সবসময় China বা অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে একই অবস্থানে থাকবে—এমন নয়।

বরং Global South -এর একটি বৈশিষ্ট্যই হলো—দেশগুলো অভিন্ন কিছু বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে, আবার অন্য বিষয়ে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বীও হতে পারে।

Africa কেন এই সমীকরণে এত গুরুত্বপূর্ণ?

Global South -এর ভবিষ্যৎ শুধু Asia দিয়ে নির্ধারিত হবে না।

Africa -এর গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

মহাদেশটির বিশাল তরুণ জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ, critical minerals, কৃষি সম্ভাবনা, জ্বালানি এবং ভবিষ্যতের consumer market—সবকিছুই তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

বিশেষ করে energy transition -এর যুগে lithium, cobalt, copper, nickel, manganese -এর মতো critical minerals -এর গুরুত্ব বাড়ছে।

ফলে Africa শুধু সাহায্যপ্রার্থী অঞ্চল হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের resource, market ও geopolitical partner হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে China, Europe, United States, India, Gulf countries—সব পক্ষের আগ্রহ বাড়ছে।

Africa তাই Global South -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ bargaining space হয়ে উঠতে পারে।

G7-এর বিপরীতে Global South?

এখানে একটি প্রচলিত ভুল হলো Global South এবং G7 -কে সরাসরি দুটি বিপরীত জোট হিসেবে দেখা।

বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।

G7 হলো বিশ্বের উন্নত শিল্পোন্নত অর্থনীতির একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক coordination forum।

Global South কোনো formal alliance নয়।

তাই “G7 বনাম Global South”—এটি বিশ্লেষণের একটি useful framework হতে পারে, কিন্তু বাস্তব সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে এটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

তবে দুই পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

G7 -এর দেশগুলো বহু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা, প্রযুক্তি, সামরিক সক্ষমতা ও financial institutions-এ এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী।

অন্যদিকে Global South -এর বড় সুবিধা হলো জনসংখ্যা, বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ, উৎপাদনক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা।

অর্থাৎ একদিকে বর্তমান institutional power, অন্যদিকে growing economic weight।

বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করবে এই দুই শক্তির মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে বদলায় তার ওপর।

IMF ও World Bank-এর প্রশ্নটি কোথায়?

Global South -এর সবচেয়ে পুরোনো অভিযোগগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য।

IMF ও World Bank দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বদলেছে।

China, India, Brazil, Indonesia ও অন্যান্য emerging economies -এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই পরিবর্তন কি IMF, World Bank ও অন্যান্য global institutions-এর decision-making structure -এ যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে?

Global South -এর অনেক দেশ quota, voting power, development finance এবং institutional reform নিয়ে পরিবর্তনের দাবি করে।

এখানে Global South-এর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে “ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে হবে” নয়; বরং “ব্যবস্থার ভেতরে প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো সংস্কার করতে হবে।”

WTO দেখাচ্ছে Global South-এর আসল শক্তি কোথায়

Global South -এর বাস্তব শক্তি বোঝার জন্য WTO বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কোনো একটি দেশের সিদ্ধান্তে চলে না। সেখানে বহু দেশের সমন্বয় প্রয়োজন।

WTO -এর বর্তমান সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উন্নয়নশীল অর্থনীতি।

অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলো একসঙ্গে অবস্থান নিলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় তাদের negotiating power যথেষ্ট বড় হতে পারে।

সমস্যা হলো—তারা সবসময় একসঙ্গে অবস্থান করে না।

কৃষি, শিল্প, tariff, subsidy, intellectual property, digital trade কিংবা climate-related trade rules—প্রতিটি বিষয়ে দেশগুলোর স্বার্থ আলাদা হতে পারে।

এটাই Global South -এর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা—দুই-ই।

Global South কি সত্যিই ঐক্যবদ্ধ?

এখন আসি মূল প্রশ্নে।

Global South কি একটি ঐক্যবদ্ধ geopolitical bloc?

উত্তর হলো—না, অন্তত এখনো নয়।

India ও China -এর মধ্যে সীমান্ত ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা আছে।

Saudi Arabia ও Iran -এর মতো দেশগুলোর মধ্যেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

Brazil -এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার Africa বা South Asia -এর কোনো দেশের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়।

আবার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর প্রয়োজন এবং বড় emerging economies-এর প্রয়োজনও একই নয়।

তাহলে Global South -এর ঐক্য কোথায়?

ঐক্য তৈরি হতে পারে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে—যেমন development finance, climate finance, trade access, technology transfer, debt reform এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে greater representation।

অর্থাৎ Global South -এর ভবিষ্যৎ সম্ভবত একটি একক রাজনৈতিক ব্লক হওয়ার মধ্যে নয়।

বরং issue-based cooperation-এর মধ্যে।

তাহলে কি বিশ্ব একটি Multipolar World-এর দিকে যাচ্ছে?

এখানে Global South -এর সবচেয়ে বড় প্রভাব সম্ভবত দেখা যায়।

শীতল যুদ্ধের সময় বিশ্বকে মোটামুটি দুই বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতায় দেখা হতো।

পরবর্তী সময়ে United States-led liberal international order তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

কিন্তু এখন বিশ্ব অনেক বেশি fragmented।

  • China একটি বড় শক্তি।
  • India -এর গুরুত্ব বাড়ছে।
  • Russia এখনও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি শক্তি।
  • European Union অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী।
  • Gulf countries -এর financial ও energy influence বাড়ছে।
  • Africa -এর strategic importance বাড়ছে।
  • এদিকে Latin America-ও commodity, food, energy ও critical minerals-এর কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাস্তবতা একটি multipolar বা বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে ইঙ্গিত করে।

তবে multipolar world মানেই Global South-এর জয় নয়

বরং এর অর্থ হলো—বিশ্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ কী?

বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য Global South -এর উত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ একদিকে South Asia -এর অংশ, অন্যদিকে একটি developing economy এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

তৈরি পোশাক, শ্রমবাজার, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, development finance এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই Global South -এর collective position বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে climate finance ও loss and damage, trade preferences, technology transfer এবং development financing-এর প্রশ্নে developing countries-এর সমন্বিত অবস্থান বাংলাদেশের negotiating position শক্তিশালী করতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হওয়া উচিত কোনো একটি শক্তির শিবিরে সম্পূর্ণভাবে চলে যাওয়া নয়।

বরং strategic flexibility বজায় রেখে China, India, United States, European Union, Gulf countries এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

Global South -এর উত্থান বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়—এটি economic diplomacy-এরও বিষয়।

Global South -এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কোথায়?

Global South -এর উত্থান নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে। কিন্তু অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই।

প্রথমত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশাল।

China এবং India -এর সঙ্গে একটি ছোট, দরিদ্র ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির সক্ষমতা তুলনা করা যায় না।

দ্বিতীয়ত, অনেক দেশ এখনও commodity exports-এর ওপর নির্ভরশীল।

তৃতীয়ত, বহু দেশে debt pressure, weak institutions, infrastructure gap এবং technology deficit রয়েছে।

চতুর্থত, Global South -এর দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই geopolitical competition আছে।

অতএব শুধু “আমরা Global South”—এই পরিচয় কোনো দেশকে শক্তিশালী করে না।

অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত bargaining power তৈরি করে।

তাহলে আসল পরিবর্তনটা কোথায়?

Global South হয়তো আগামীকাল পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে না।

কিন্তু ইতিমধ্যে একটি পরিবর্তন ঘটছে—বিশ্বব্যবস্থার নিয়ম, প্রতিষ্ঠান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর bargaining power আগের তুলনায় বেড়েছে।

এটি তিনটি জায়গায় বিশেষভাবে দেখা যায়।

প্রথমত, global trade।

দ্বিতীয়ত, development finance ও international financial governance।

তৃতীয়ত, geopolitical alignment।

আগে অনেক দেশকে বড় শক্তির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হতো। এখন কিছু দেশ একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের জন্য negotiating space তৈরি করতে পারছে।

এটি হয়তো Global South-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

শেষ পর্যন্ত Global South কি ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে?

হ্যাঁ—কিন্তু ধীরে, অসমভাবে এবং প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল পথে।

Global South এখনো কোনো একক শক্তি নয়। BRICS কোনো নতুন NATO নয়। China পুরো Global South -এর নেতা নয়। India-ও নয়। আর ডলার আগামীকাল অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে—এমন প্রমাণও নেই।

কিন্তু এসব সত্যের পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতাও অস্বীকার করা যায় না।

বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশ্ব উৎপাদন ও বাণিজ্যে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। China ও India-এর মতো দেশ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের অবস্থান জোরালো করছে। Africa- এর strategic importance বাড়ছে। BRICS নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে। WTO -তে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংখ্যাগত শক্তি বড়। আর IMF ও World Bank-এর মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

তাই Global South -এর প্রকৃত শক্তি কোনো একক জোটে নয়।

এর শক্তি হলো—বিশ্ব আর আগের মতো কয়েকটি Western power-এর সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ নেই।

তবে এই পরিবর্তনকে “পশ্চিমের পতন” হিসেবে দেখাও ভুল।

বরং বিশ্ব এমন একটি পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে পুরোনো শক্তিগুলো এখনও শক্তিশালী, কিন্তু নতুন শক্তিগুলোও আগের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের বিশ্ব সম্ভবত হবে না “West বনাম South”।

বরং হবে—বহু শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা এবং দরকষাকষির একটি জটিল ব্যবস্থা।

আর সেই ব্যবস্থায় Global South -এর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—তারা কি নিজেদের অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত শক্তিকে একটি কার্যকর collective bargaining power-এ রূপান্তর করতে পারবে?

যদি পারে, তাহলে Global South শুধু বিশ্বব্যবস্থার একজন অংশগ্রহণকারী থাকবে না।

এটি বিশ্বব্যবস্থার নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

আর যদি না পারে, তাহলে অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত বিশালতা থাকা সত্ত্বেও Global South -এর দেশগুলো নিজেদের আলাদা আলাদা স্বার্থের কারণে বিভক্তই থেকে যাবে।

সুতরাং Global South -এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে শুধু China -এর উত্থান, BRICS -এর সম্প্রসারণ বা ডলারের ভবিষ্যৎ নয়।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—এই দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।

Global South-এর গল্প তাই পশ্চিমের বিকল্প তৈরির গল্পের চেয়ে বড়। এটি আসলে বিশ্বক্ষমতার কেন্দ্র কতগুলো থেকে কতগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই পরিবর্তনের গল্প।

বিশ্বস্ত সূত্র

UN Trade and Development (UNCTAD) — Global South, South-South Cooperation ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

World Trade Organization (WTO) — Developing economies ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাদের অংশগ্রহণ

International Monetary Fund (IMF) — Global economy, international monetary system ও institutional governance

World Bank — Global development, emerging economies ও international development finance

United Nations — Global development, South-South cooperation ও multilateral system

BRICS — সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতা ও New Development Bank সম্পর্কিত তথ্য

1 thought on “Global South কি সত্যিই বিশ্বব্যবস্থার ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *