Cumilla yaba smuggling crime

গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে কীভাবে লুকানো হলো ‘১ লাখ ইয়াবা’? তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

৯ জুলাই ২০২৬ | কুমিল্লা | TheBuzzLens

কুমিল্লায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক দফা তল্লাশির পরও উদ্ধার হয়নি কোনো মাদক। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, মাইক্রোবাসটির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরেই লুকিয়ে রাখা ছিল প্রায় ১ লাখ ইয়াবা। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। তবে ‘১ লাখ ইয়াবা’র দাবি এখনো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একাধিক তল্লাশি, তবুও মিলল না কিছু :
ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকা থেকে চালক আব্দুল মালেক ওরফে হাসান মাঝি এবং তার সহকারী সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিন একটি মাইক্রোবাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্য ছিল, গাড়িতে ১৫ হাজার ইয়াবা থাকতে পারে। কিন্তু পুরো মাইক্রোবাস তল্লাশি করেও কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।

সন্দেহ দূর করতে পরে গাড়িটি পদুয়ার বাজারের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে বিভিন্ন অংশ খুলেও পরীক্ষা করা হয়। সেখানেও কিছু না পাওয়ায় রাতেই মাইক্রোবাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপরই সামনে আসে নতুন দাবি :
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় কয়েক দিন পর। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার থেকে মাদকচক্রের কয়েকজন সদস্য ফোন করে দাবি করেন, মাইক্রোবাসটির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে প্রায় ১ লাখ ইয়াবা বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল।

তাদের দাবি, সিলিন্ডারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে বাইরে থেকে সেটিকে স্বাভাবিক গ্যাস সিস্টেমের অংশ বলেই মনে হচ্ছিল। ফলে তল্লাশির সময় সেটি সন্দেহের তালিকায় আসেনি।

ডিবি যা বলছে :
কুমিল্লা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার বলেন, গাড়ির কোনো অংশই তল্লাশির বাইরে রাখা হয়নি। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হতে পারে—এমন ধারণা তাদের ছিল না।

তিনি আরও জানান, সোর্সের তথ্যের সঙ্গে তল্লাশির ফল না মেলায় গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে গ্যাস সিলিন্ডারে ইয়াবা থাকার দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তদন্ত চলছে
ডিবি জানিয়েছে, মাইক্রোবাসটি এবং চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারে প্রায় ১ লাখ ইয়াবা থাকার দাবির সত্যতা যাচাইয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

💬 আপনার মতামত জানান
আপনার মতে, মাদক পাচারে গ্যাস সিলিন্ডারের মতো কৌশল ব্যবহার ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?
আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇


o,  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *