প্রশ্নফাঁসবিরোধী নতুন আইন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তাকে ঘিরে অভিজিৎ দিপকের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত প্রতীকী ছবি
‘
নয়াদিল্লি | ২ আগস্ট ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশিত ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
প্রশ্নফাঁসবিরোধী নতুন আইন নিয়ে মোদির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি মন্তব্য করেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত সেলফি-স্টাইলের এক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদি পাবলিক পরীক্ষা সংশোধন বিল, ২০২৬-কে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস মাফিয়াদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর আইনের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার অব্যাহত থাকবে।
ইনস্টাগ্রামে দিপকের কটাক্ষ
মোদির ওই ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় ইনস্টাগ্রামে দিপকে লেখেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল।’
দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মধ্যেই তার এই মন্তব্য আসে। সিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
নতুন আইনে কী আছে
সম্প্রতি ভারতের সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া সংশোধনী বিলে ২০২৪ সালের প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন আরও কঠোর করা হয়েছে।
নতুন আইনে—
🔹পরীক্ষা জালিয়াতির জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
🔹নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
🔹রাজ্যগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর দিকেই জোর নেই’
তবে বিলটি নিয়ে সমালোচনা করেছে সিজেপি। দলটির দাবি, সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধের চেয়ে ঘটনার পর শাস্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা বলেন, বিলটিতে প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ দূর করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পুনর্গঠন এবং পরীক্ষা পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
‘আইন নয়, দরকার সদিচ্ছা’
দিপকে সাংবাদিকদের বলেন, আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সদিচ্ছা না থাকলে কোনো আইনই কার্যকর হবে না।
তিনি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, আদালতের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রথম শুনানিই সিবিআইয়ের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় স্থগিত হয়েছে।
মোদির ভিডিও নিয়েও সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী মোদি এ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চারটি সেলফি-স্টাইলের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এসব ভিডিও নিয়েও সমালোচনা করেছে সিজেপি।
দিপকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বদলে মোদির একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়া উচিত।
একই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও মন্তব্য করেন, নতুন নতুন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল দিয়ে ভিডিও বানিয়ে জেন-জি প্রজন্মের সমর্থন পাওয়া যাবে না; বরং প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
সূত্র: বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
