প্রয়াগরাজের নিউ যমুনা ব্রিজ থেকে যমুনা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া প্রেমিকের প্রতীকী দৃশ্য!

একসঙ্গে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করলেও শেষ মুহূর্তে নদীতে ঝাঁপ দেন শুধু প্রেমিক। পরে পুলিশ ও ডুবুরিদের অভিযানে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়!

ভারতের প্রয়াগরাজে একসঙ্গে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে যমুনা নদীর সেতুতে যান এক প্রেমিক-প্রেমিকা। শেষ মুহূর্তে প্রেমিক নদীতে ঝাঁপ দিলেও প্রেমিকা সিদ্ধান্ত বদলে চলে যান। পরে নাটকীয় অভিযানে যুবককে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।
১৭ জুলাই |ভারত | The BuzzLens


একসঙ্গে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুজন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই পৌঁছেছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের নিউ যমুনা ব্রিজে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে যায় এক নাটকীয় মোড়। প্রেমিক নদীতে ঝাঁপ দিলেও প্রেমিকা নিজের সিদ্ধান্ত বদলে সেতু ছেড়ে হেঁটে চলে যান। পরে স্থানীয় ডুবুরি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রয়াগরাজের নিউ যমুনা ব্রিজে। উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম আনু গুপ্তা।

একসঙ্গে মৃত্যুর পরিকল্পনা

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই একসঙ্গে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে সেতুতে এসেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুর ওপর কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী আনু গুপ্তা যমুনা নদীতে ঝাঁপ দেন।

কিন্তু তখনই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।

প্রেমিকা নদীতে ঝাঁপ না দিয়ে সেতুর ওপর থেকেই পুরো ঘটনাটি দেখেন। এরপর কোনো ধরনের চিৎকার বা সাহায্যের চেষ্টা না করে ধীর পায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শুরু হয় উদ্ধার অভিযান

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় স্থানীয় পুলিশ ও ডুবুরি দল। কয়েক দফা অনুসন্ধানের পর নদী থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আনু গুপ্তাকে।

উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

প্রেমিকাকে খুঁজছে পুলিশ

ঘটনার পর থেকে ওই তরুণীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। আত্মহত্যার পরিকল্পনার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানসিক সংকটকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কজনিত বা ব্যক্তিগত সংকট অনেক সময় মানুষকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা এবং সময়মতো সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশও নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছে, কারও আচরণে আত্মহত্যার ঝুঁকির ইঙ্গিত দেখা গেলে তা অবহেলা না করে দ্রুত পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।
সূত্র: India Today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *