স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১১ জুলাই ২০২৬ | ঢাকা | TheBuzzLens

আলোচনা সভায় কী বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন?


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের আগে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। তার এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তার দাবি


শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সেখানে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল না পাকিস্তান ভেঙে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা। তার দাবি অনুযায়ী, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে বক্তব্য


বক্তব্যে স্পিকার আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নয় মাসের যুদ্ধ এবং লাখো মানুষের আত্মত্যাগের বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের পর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সেই সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা মুক্তিযুদ্ধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কেন নতুন করে আলোচনা শুরু হলো?


স্পিকার বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ ছিল কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ।

ঐতিহাসিক বিতর্কের প্রেক্ষাপট


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গবেষক ও ইতিহাসবিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমত রয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যও সেই চলমান বিতর্কের অংশ হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

💬 আপনার মতামত জানান


মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও দলিলভিত্তিক আলোচনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *