পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্সের ফাতাহ-১ থেকে ফাতাহ-৫ রকেট প্রযুক্তির বিবর্তন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। ছবি: Collected / TheBuzzLens
১০ জুলাই | ইসলামাবাদ | TheBuzzLens
পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্স (Pakistan Army Rocket Force) গঠনের পর দেশটির ফাতাহ (Fatah) সিরিজের রকেট ও মিসাইল প্রযুক্তি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য ফাতাহ-৫ (Fatah V) নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই গাইডেড রকেট সিস্টেম ২০২৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। যদি তা বাস্তবে রূপ নেয়, তবে পাকিস্তানের প্রচলিত প্রতিরোধ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
ফাতাহ সিরিজের বিবর্তন
পাকিস্তানের দেশীয় রকেট উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হয় ২০১৫–১৬ সালের দিকে। এর প্রথম ফল ফাতাহ-১, যার সফল পরীক্ষা চালানো হয় ২০২১ সালে। প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পাল্লার এই গাইডেড রকেট ছিল সিরিজটির সূচনা।
এরপর ধারাবাহিকভাবে আসে ফাতাহ-২, যার পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এবং এটি ২০২৩ সালে পরীক্ষিত হয়। পরবর্তী ধাপে ফাতাহ-৩-কে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর আসে ফাতাহ-৪, যার পাল্লা প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি সাবসনিক গতিতে উড়তে পারে এবং মাটি ঘেঁষে চলার সক্ষমতা রয়েছে।
এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সম্ভাব্য সংযোজন ফাতাহ-৫, যার পাল্লা প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাতাহ-৫-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ফাতাহ-৫ নিম্ন-উচ্চতায় (Low Altitude) উড্ডয়নের মাধ্যমে রাডারের নজর এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই প্রযুক্তি সফল হলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
এছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতাহ-৪ প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার দূরত্বে ৫ মিটার Circular Error Probable (CEP) বা নির্ভুলতার মান অর্জন করেছিল। একই ধরনের বা আরও উন্নত নির্ভুলতা ফাতাহ-৫-এ থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এমন সক্ষমতা থাকলে বিমানঘাঁটি, গোলাবারুদ ডিপো, কমান্ড সেন্টার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল হামলা চালানো সহজ হতে পারে।
পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্সের কৌশলগত গুরুত্ব
২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নির্দেশনায় পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড গঠন করা হয়। এই নতুন কমান্ডের অধীনে পারমাণবিক অস্ত্রের বাইরে থাকা প্রচলিত রকেট ও মিসাইল সক্ষমতাকে একীভূত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ফাতাহ-৫ যুক্ত হলে এই কমান্ডের দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার সক্ষমতা আরও বাড়বে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই পাল্লার অস্ত্র পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি না গিয়েও ভারতীয় বিমানঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, গোলাবারুদ ডিপো, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা দিতে পারে।
এখন পর্যন্ত কী নিশ্চিত, কী অনিশ্চিত?
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এখন পর্যন্ত ফাতাহ-৫-এর পরীক্ষা, পাল্লা বা কারিগরি সক্ষমতা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
ফলে বর্তমানে আলোচনায় থাকা বেশিরভাগ তথ্যই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক, উন্মুক্ত সূত্র এবং আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্স এবং সম্ভাব্য ফাতাহ-৫ ইতোমধ্যেই প্রতিরক্ষা মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এর বাস্তব অগ্রগতি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
💬 আপনার মতামত কী?
আপনার কি মনে হয়, ফাতাহ-৫ সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে? আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন।
