ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে মুসলিম জনসংখ্যায় বিশ্বসেরা হবে ভারত, তবু বদলাবে না ধর্মীয় সমীকরণ!

ওয়াশিংটন | TheBuzzLens
আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হতে চলেছে ভারত — এমনই এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। এই দৌড়ে পেছনে পড়ে যাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া, যা এতদিন এই তালিকার শীর্ষে ছিল।
সংখ্যায় কতটা বিশাল এই পরিবর্তন?
পিউ রিসার্চের দীর্ঘমেয়াদী সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩১ কোটি ১০ লাখে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪-১৫ শতাংশ মুসলিম, যা ২০৫০ সাল নাগাদ পৌঁছাতে পারে ১৮.৪ শতাংশে। তবে সংখ্যায় এই বিপুল উল্লম্ফন সত্ত্বেও হিন্দুদের শতকরা হার সামান্য কমে বর্তমান প্রায় ৭৯ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়াতে পারে ৭৬-৭৭ শতাংশে।
একইসঙ্গে দুই রেকর্ডের মালিক হবে ভারত :
এই পরিসংখ্যান সত্যি হলে ভারত একই সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম হিন্দু জনসংখ্যা এবং বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, সংখ্যাগত এই রেকর্ড ভাঙলেও ভারতের মূল সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল ঘটছে না — হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই বিপুল ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবেন।
আসল কারণ কী, রাজনীতি নাকি পরিসংখ্যান?
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই জনমিতিক পরিবর্তনের পেছনে কোনো ধর্মান্তরকরণ বা সরকারি নীতির ভূমিকা নেই। বরং এর মূলে রয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পরিসংখ্যানগত কিছু কারণ — বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হারের পার্থক্য, তরুণ জনসংখ্যার আধিক্য, এবং জীবনযাত্রার মান ও গড় আয়ুর তারতম্য। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তন হঠাৎ ঘটবে না, বরং কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত ধীরগতিতে সম্পন্ন হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক এই পূর্বাভাস নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষত প্রতিবেশী মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর জনসংখ্যা প্রবণতার সঙ্গে তুলনা টেনে।
💬 আপনার মতামত জানান
পিউ রিসার্চের এই পূর্বাভাস আপনার কাছে কতটা যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে?
মতামত জানান কমেন্টে 👇
