সংসদে জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা
২৯ আগস্ট, ২০২৬ । বাজলেন্স ডেস্ক
জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্ন
রুমিন ফারহানা বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষ হাহাকার করছে এবং গ্যাসের সংকটও রয়েছে। অথচ নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তার দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। একই সময়ে ৯০০টির বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও সংসদে দাবি করেন তিনি।
নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, ‘যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে, আল্লাহ জানে।’
আইনশৃঙ্খলা নিয়েও সমালোচনা
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো ব্যঙ্গ করেন, আবার কখনো ‘বাকচাতুর্য’ দিয়ে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র বোঝা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ
বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইনও দেখা যাচ্ছে।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ ও নিত্যপণ্যের দাম—এই তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার বড় পার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয় তুলে ধরে সংসদে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
