দক্ষিণখানে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ডিএমপির এক এএসআই ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২৫ আগস্ট, | ২০২৬ বাজলেন্স ডেস্ক
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে এবার পুলিশের এক এএসআই-ই গ্রেপ্তার হয়েছেন। দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযানে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দক্ষিণখান থানার এসআই বখতিয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়তে পারেন :‘স্যার’ ও ‘কাকি’ ডাকত যারা, তারাই একে একে চারজনকে হত্যা: এরপর খেজুর-শসা খাওয়ার দাবি পুলিশের
প্রথমে ৫০ পিস, এরপর খুলল বড় ‘গোপন’ দরজা
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন মো. ওয়াসিম (২৪)। তাকে আটক করে তল্লাশি চালানোর পর পাওয়া যায় ৫০ পিস ইয়াবা।
এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশের দাবি, ওয়াসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩)-কে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ২০০ পিস ইয়াবা।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
আরও পড়তে পারেন : ‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড!” বিএনপি নেতার প্রস্তাব
ফ্ল্যাটে মিলল আরও ৫ হাজার ১১০ পিস
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়।
সেখানেই পাওয়া যায় আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা।
সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩১০ পিস।
অর্থাৎ প্রথম অভিযানে পাওয়া ৫০ পিস থেকে তদন্ত এগিয়ে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি ইয়াবা।
আরও পড়তে পারেন : ১৩ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, শিক্ষিকার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশের এএসআই কীভাবে জড়ালেন?
গ্রেপ্তার হওয়া এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় কর্মরত ছিলেন। পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানিয়েছেন, শফিকুল সেখানে অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় খুচরা বিক্রি করতেন।
তবে ইয়াবা সংগ্রহের উৎস, পুলিশের এএসআইয়ের ভূমিকা এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
আরও পড়তে পারেন : সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচ করেছি, তোরা পৌরসভায় আসবি না’: বিএনপি নেতার অডিও ভাইরাল
মামলায় আরও দুই-তিনজন অজ্ঞাত
এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের পোশাকের ভেতরেই যদি মাদকের অভিযোগ ওঠে
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার নয়—একজন কর্মরত পুলিশ সদস্য কীভাবে এমন একটি মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন?
অভিযোগটি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের জবাবদিহি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলবে।
তবে আপাতত শফিকুল ইসলাম ও ওয়াসিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মামলার তদন্তাধীন বিষয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।
