১৩ বছরের ছাত্র ও তরুণী শিক্ষিকাকে ঘিরে আলোচিত মামলার প্রতীকী ছবি

১৩ বছরের ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় শিক্ষিকা গ্রেপ্তার; মামলাটি ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতীকী ছবি।

পুনের আবাসন থেকে ১৩ বছরের এক ছাত্র নিখোঁজের পর শিক্ষিকার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর মেডিক্যাল পরীক্ষায় শিক্ষিকার গর্ভধারণের তথ্য সামনে আসে; পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে চলছে ডিএনএ পরীক্ষা।

পুনের একটি আবাসন থেকে ১৩ বছরের এক ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে নেমেছিল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণী শিক্ষিকার সঙ্গে ওই কিশোরকে বেরিয়ে যেতে। এরপর শুরু হয় এক শহর থেকে আরেক শহরে তাদের খোঁজ।

কয়েক দিন পর রাজস্থান-গুজরাট সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দুজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এরপর মেডিক্যাল পরীক্ষায় যে তথ্য সামনে আসে, তাতে তদন্ত আরও জটিল হয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, ২৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা তখন প্রায় ২০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভস্থ ভ্রূণের পিতৃত্ব নিয়ে তার দাবি যাচাই করতে কিশোরের ডিএনএ নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি গুজরাটের সুরাটের সঙ্গে যুক্ত হলেও এর সূত্রপাত পুনেতে।

২৫ এপ্রিলের পর কোথায় গেল কিশোর?

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল বিকেলে পুনের একটি আবাসন থেকে নিখোঁজ হয় ওই কিশোর।

খোঁজ শুরু করার পর আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে। সেখানে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে কিশোরকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুজন একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিল। তাদের অবস্থানের সূত্র মেলে ভাদোদরা, আহমেদাবাদ, দিল্লি, জয়পুর ও বৃন্দাবনের মতো শহরেও।

অবশেষে রাজস্থান-গুজরাট সীমান্তবর্তী একটি এলাকা থেকে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় মেডিক্যাল রিপোর্ট

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত শিক্ষিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সেখানেই জানা যায়, তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তদন্তকারীদের কাছে এরপর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—গর্ভস্থ ভ্রূণের পিতা কে?
অভিযুক্ত শিক্ষিকা দাবি করেছেন, ওই ১৩ বছর বয়সী কিশোরই ভ্রূণের পিতা। পুলিশ এই দাবিকে যাচাই করতে কিশোরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠিয়েছে।

ফলাফল না আসা পর্যন্ত পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তিন বছরের পরিচয় কীভাবে বদলে গেল এমন সম্পর্কে?

তদন্তে উঠে এসেছে, ওই শিক্ষিকা প্রায় তিন বছর ধরে কিশোরটির গৃহশিক্ষক ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে তিনি একাধিক শিক্ষার্থীকে পড়ালেও পরবর্তী সময়ে শুধু ওই কিশোরকেই পড়াতেন। সেই সময় থেকেই দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

পুলিশের অভিযোগ, পুনে ছাড়ার আগে ঘটনাটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিশোর তার কিছু পোশাক শিক্ষিকার কাছে দিয়েছিল এবং পরে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীও কেনা হয়।

তদন্তকারীদের মতে, এরপর দুজন প্রথমে গুজরাটের সুরাটে এবং পরে ভদোদরার একটি হোটেলে অবস্থান করে।

কিশোরের শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও তদন্ত

কিশোরের বয়স মাত্র ১৩ হওয়ায় তদন্তের শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—এই বয়সে তার জৈবিকভাবে পিতা হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না।

পুলিশের দাবি, চিকিৎসা পরীক্ষায় তার সেই সক্ষমতা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে সে-ই গর্ভস্থ ভ্রূণের জৈবিক পিতা কি না, তা নির্ধারণ করবে ডিএনএ পরীক্ষার ফল।

অর্থাৎ তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মেলেনি।

গর্ভপাতের অনুমতি চেয়েছিলেন শিক্ষিকা

এদিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওই শিক্ষিকা।

আদালত বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের মতামত চায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের দেওয়া প্রতিবেদনে গর্ভাবস্থা অব্যাহত রাখলে ওই নারীর মানসিক ও সামাজিক জটিলতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।

এরপর প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর অধীনে আদালত তার আবেদনে সম্মতি দেয়।

ভারতের মেডিকেল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়ার বিধান রয়েছে।

আদালতের অনুমতি মিললেও তদন্ত থামছে না

গর্ভপাতের বিষয়ে আদালতের অনুমতি মিললেও মামলার তদন্ত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মুক্তি পাচ্ছেন না।

পুলিশ তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত POCSO আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করেছে। একই সঙ্গে কিশোরকে অপহরণের অভিযোগেও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৩৭(২)-এর অধীনে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এখন তদন্তকারীদের নজর মূলত ডিএনএ পরীক্ষার ফলের দিকে। সেই রিপোর্টই গর্ভস্থ ভ্রূণের পিতৃত্বসংক্রান্ত দাবির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

একটি নিখোঁজের ঘটনা থেকে শুরু হওয়া তদন্ত তাই এখন অপহরণ, শিশু যৌন নির্যাতন এবং পিতৃত্ব নির্ধারণ—তিনটি গুরুতর প্রশ্নকে ঘিরে এগোচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *