ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ককরোচ প্রতীকযুক্ত ব্যানারের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের সময় বক্তব্য দিচ্ছেন।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

Excerpt:সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে যন্তর মন্তরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। লাঠিচার্জ, বিশেষ আদালতের ঘোষণা এবং দেশজুড়ে নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।



ভারতের চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তবে সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনকারীদের দাবি, যেকোনো আলোচনা হতে হবে দিল্লির যন্তর মন্তর অথবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষোভ জমতে থাকায় আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন আরও অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ।

আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়মের কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। এরপর থেকেই আন্দোলন আরও জোরদার হয়। সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের ডাকা বৈঠকে তারা অংশ নেবেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার এবং যারা সেই ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু শাস্তির ঘোষণা যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনের বিষয়ে অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সরকার এমন নিশ্চয়তা দিলে তিনি অনশন ভাঙার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

এদিকে দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ১০টি এজাহার দায়ের করেছে। বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে এক পুলিশ সদস্যকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আবার বিক্ষোভে অংশ নিলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য পবন সাঙ্গলেকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সমর্থনে প্রকাশিত ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ডিনের নির্দেশেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *