ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে রিলস তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন—প্রতীকী ছবি।

তরুণদের কাছে সরকারের বার্তা পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রাম রিলস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের উত্তাপে তরুণদের কাছে সরকারের বার্তা পৌঁছাতে নতুন ডিজিটাল কৌশলের ইঙ্গিত দিলেন নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে রিলস ও ভিডিও তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সরকারের বার্তা তরুণদের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে নতুন ডিজিটাল কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে আরও সক্রিয় হয়ে ছোট ভিডিও ও ‘রিলস’ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের একটি বড় অংশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়। তাই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অবস্থান তাদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

মন্ত্রীদের কী নির্দেশ দিলেন মোদি?

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে জানতে চান, কোন কোন মন্ত্রী নিয়মিত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। এরপর তিনি সবাইকে সংক্ষিপ্ত ভিডিও, রিলস এবং সহজ ভাষার ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির পরামর্শ দেন, যাতে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করা যায়।

একই দিনে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের নেওয়া এবং প্রস্তাবিত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে একটি বিস্তারিত পোস্ট প্রকাশ করেন মোদি। সেখানে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও উল্লেখ করা হয়।

আন্দোলন থামেনি

এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে।

সিজেপির তিন দাবি

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) জানিয়েছে, তাদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে—

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
ভর্তি পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া
সংগঠনটির দাবি, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

ডিজিটাল বার্তার ওপর জোর

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটার ও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকায় সরকার এখন ডিজিটাল যোগাযোগকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার চেয়ে তাদের দাবি বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

💬 আপনার মতামত জানান: তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগে মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রাম রিলস তৈরির উদ্যোগ কতটা কার্যকর হতে পারে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *