বাংলাদেশের প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য নতুন ১০টি বিশেষ সুবিধার নমুনা কার্ডের ছবি

আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে প্রবাসী কার্ড, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীরা পাবেন ১০টি বিশেষ সুবিধা।

আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড। নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দর, ব্যাংকিং, চিকিৎসা, রেমিট্যান্সসহ ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

১৮ জুলাই | নিজস্ব প্রতিবেদক | The BuzzLens

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন একটি সেবা চালুর পথে এগোচ্ছে সরকার। আগামী আগস্ট মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘প্রবাসী কার্ড’, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা পাবেন অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ড আন্তর্জাতিক লেনদেন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার নিশ্চিত করবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘চামেলী’ হলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রবাসী কার্ড চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী মাসের মধ্যেই কার্ডটির পাইলট কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

কেন চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড?

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, বিভিন্ন সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং রেমিট্যান্স প্রেরণকে আরও উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এছাড়া ডুয়াল-কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন এই কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট, ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ

সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, যা দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধাভিত্তিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে।

প্রবাসীরা যেসব ১০টি সুবিধা পাবেন

প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

🔹দেশে ও বিদেশে বিনামূল্যে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে দ্রুত সেবা।
🔹আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে Meet & Greet সুবিধা।
🔹বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ মূল্যছাড়।
🔹দেশে-বিদেশে নির্ধারিত মূল্যে গাড়ি বুকিং এবং নির্দিষ্ট কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-আপ ও ড্রপ সুবিধা।
🔹সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা ডেস্ক এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়ে বিশেষ ছাড়।
🔹কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা।
🔹প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।
🔹জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।
🔹রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ঋণ সুবিধা, ক্রেডিট স্কোরিং এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেন।
🔹জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।

আগস্টেই শুরু, প্রথমে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে

বৈঠকে জানানো হয়, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে।

প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংক এই কার্ড ইস্যুর দায়িত্ব পালন করবে। পরবর্তী ধাপে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্ড-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও আধুনিক হবে দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা

বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, বিশেষ সহকারী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *