চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীতে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে দিনদুপুরে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলার মাত্র দুই দিন আগে তাদের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর চকবাজার থানার বাকলিয়া এক্সেস রোডে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর প্রধান কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সেলস এস এম রবিউল ইসলাম রাকিব জানান, ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতভাবে অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। এ সময় অফিস থেকে ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডিডিএনের অন্যতম পরিচালক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল কবির অভিযোগ করেন, গত শনিবার তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদিল বিন মামুন-এর মোবাইল ফোনে কল করে ‘ডেভিড ইমন’ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে কথিত ‘বড় সাজ্জাদ’ গ্রুপের সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা নিয়মিত দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপেও একজনকে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা যাচ্ছে। অডিওতে ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় ডেভিড ইমন বলে উল্লেখ করেন এবং তার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের কাছেও খোঁজ নেওয়ার কথা বলেন। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি নগরীর ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকাশ্যে এমন হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
