হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সামনে রোগীর অভিযোগ

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে অভিযোগ করছেন এক নারী।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে স্যালাইন ও ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হওয়ার অভিযোগ করেন এক নারী। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

৩০ আগস্ট ২০২৬ | বাজলেন্স ডেস্ক

‘স্যালাইন কিনতে হয়; এটা কিসের সরকারি হাসপাতাল? বেসরকারি বলে দিলেই হয়।’—হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সামনে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক নারী।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আকস্মিকভাবে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে সরাসরি খোঁজ নেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে রোগীর ক্ষোভ

পরিদর্শনের একপর্যায়ে এক নারী হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘স্যালাইন কিনতে হয়; এটা কিসের সরকারি হাসপাতাল? বেসরকারি বলে দিলেই হয়।’

ওই নারী জানান, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এমনকি সাত দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও তিনি শয্যা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

রোগীর এমন অভিযোগের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের চিকিৎসক ও জনবল সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রোগীদের অন্যান্য অভিযোগ নিয়েও তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

‘অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না’

হাসপাতালের সেবার মান দ্রুত উন্নত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

একই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে দালাল চক্র উচ্ছেদে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অসন্তোষ

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার হাসপাতালের তুলনায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খারাপ। এ অবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

অনুপস্থিত ফার্মাসিস্টকে বদলির নির্দেশ

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ডিসপেনসারিতেও যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে ছুটি ছাড়াই ফার্মাসিস্ট রিগান আহমেদকে অনুপস্থিত দেখতে পান তিনি।

এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ওই ফার্মাসিস্টকে বদলি করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান প্রায় আড়াই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরে তাকেও স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিন সপ্তাহ পর আবারও হাম টিকাদান

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন সপ্তাহ পর সারাদেশে আবারও হাম প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধে শিশুদের যথাযথভাবে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করাও জরুরি।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আকস্মিক পরিদর্শনে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং কর্মীদের অনুপস্থিতির বিষয়গুলো সামনে আসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *