রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় শোক ও উৎকণ্ঠা।
২৬ আগস্ট ২০২৬ | দ্য বাজলেন্স | রংপুর
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে কখনো মাদক সেবন করতে দেখা যায়নি।
তবে পুলিশের দাবি, দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সিআইডি।
আরও পড়তে পারেন : ‘স্যার’ ও ‘কাকি’ ডাকত যারা, তারাই একে একে চারজনকে হত্যা: এরপর খেজুর-শসা খাওয়ার দাবি পুলিশের
পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের
রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় এখনো কাটেনি শোক ও উৎকণ্ঠা। শনিবার রাতে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ বলছে, মাদক সেবনের ঘটনা দেখে ফেলায় ওই চারজনকে হত্যা করা হয়। তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ স্থানীয়দের একটি অংশ।
এলাকাবাসীর একজন বলেন, ‘যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা আমাদের কাছে, জনগণের কাছে, ছাত্রদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এটি একটি নাটক বলে মনে হচ্ছে।’
স্থানীয় এক তরুণও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, হত্যার আলামত ও তদন্ত নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
এলাকার এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুরো জিনিসটাকে আড়াল রেখে কিছু মাদক কারবারীকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, আসল অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।’
আরও পড়তে পারেন : পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময় গায়ে ছিল গেঞ্জি, পরে শার্ট: সিদ্ধার্থের বাবা
আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তি
অন্যদিকে, চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রংপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের উপস্থাপন করি। আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান আছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে আসামিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ডাকাতি কিংবা কোনো ধরনের বিরোধের কথা বলেননি।
আরও পড়তে পারেন : ৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ পুলিশের এএসআই গ্রেপ্তার
ইয়াবা কেনার টাকা নিয়ে পুলিশের ব্যাখ্যা
রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, ইয়াবা কেনার সময় দুই আসামি তাদের বাটন ফোন বন্ধক রেখেছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর তারা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা পায়। সেই টাকা দিয়ে হত্যার পরের দিন বন্ধক রাখা মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেয় তারা।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সিআইডি।
আরও পড়তে পারেন : ‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড!” বিএনপি নেতার প্রস্তাব
ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধের তথ্য
এদিকে, ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
তিনি জানান, সিআইডির পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার পর চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।
প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি
এদিকে, প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবারও বিক্ষোভ করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের সব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে কি না। তাই তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং সিআইডির পরীক্ষার ফলের দিকে এখন নজর রয়েছে।
