মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদরে বড় উত্থান দেখা দিয়েছে।

কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ। মালিকানা বদলের পুরোনো উদ্যোগও এখন কার্যকর নয়। তবু দুই কার্যদিবসে মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ২০ শতাংশ। DSE-এর প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি বলেছে, অস্বাভাবিক উত্থানের ব্যাখ্যা করার মতো কোনো অপ্রকাশিত PSI বা গুরুত্বপূর্ণ corporate decision তাদের জানা নেই।

২২ আগস্ট, ২০২৬ | অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। মালিকানা বদলের পুরোনো উদ্যোগও এখন কার্যকর নয়। মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর অবশ্য সেই স্থবিরতার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে না। মাত্র দুই কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২০ শতাংশ।

২০ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং (CEPZ) লিমিটেডের শেয়ারদর দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৬০ পয়সায়। অস্বাভাবিক price movement এবং trading activity নজরে আসার পর কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে DSE।

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর কেন বাড়ছে?

বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোম্পানির নিজের বক্তব্যে সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে কোনো নতুন corporate catalyst-এর কথা পাওয়া যাচ্ছে না।

১৭ আগস্ট DSE কোম্পানিটির কাছে জানতে চায়, শেয়ারদর ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI), গুরুত্বপূর্ণ corporate decision বা উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা আছে কি না।

জবাবে মিথুন নিটিং জানায়, এমন কোনো unpublished price-sensitive information বা গুরুত্বপূর্ণ corporate decision তাদের জানা নেই, যা সাম্প্রতিক price movement ব্যাখ্যা করতে পারে।

ফলে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কোম্পানির পক্ষ থেকে নতুন কোনো catalyst না থাকলে এই price surge-এর পেছনে কী কাজ করছে?

তবে শুধু শেয়ারদর বাড়ার ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা buy pressure-এর উৎস নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়তে পারেন : রেকর্ড ডেট কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড

কারখানা বন্ধ, ব্যবসাও স্থবির

মিথুন নিটিংয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান price movement আরও নজরকাড়া হওয়ার কারণ কোম্পানিটির operational অবস্থান।

কোম্পানিটির কারখানা ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। একটি কোম্পানি disclosure-এর সারাংশ অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে factory operation suspended থাকায় earnings per share এবং net operating cash flow per share-সংক্রান্ত তথ্যও শূন্য ছিল।

অন্যদিকে, কোম্পানিটির সম্পদ ও কার্যক্রম নিয়েও আগে regulatory scrutiny হয়েছে। ২০২১ সালে Chattogram EPZ কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির lease agreement বাতিল এবং non-current assets auction-এর বিষয়ে management-কে নোটিশ দিয়েছিল বলে corporate disclosure-এ উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর সাম্প্রতিক সময়ে যে দিকে যাচ্ছে, সেটি কোম্পানির স্বাভাবিক operating performance-এর সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে দেখার সুযোগ সীমিত।

মালিকানা বদলের পুরোনো গল্পও এখন সামনে নেই

তবে মিথুন নিটিংকে ঘিরে ownership change-এর আলোচনা একেবারে নতুন নয়।

২০২৪ সালে চীনা প্রতিষ্ঠান Destination Express International (DEX-I) Limited কোম্পানিটির sponsor shares অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। সে সময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) প্রস্তাবটিতে অনুমোদনও দিয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রয়াত উদ্যোক্তা মোজাম্মেল হকের উত্তরাধিকারীসহ সংশ্লিষ্টদের হাতে থাকা ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮টি শেয়ার DEX-I-এর কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।

কিন্তু সেই ownership transfer শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।

পরবর্তীতে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও BSEC অনুমোদন বাতিল করে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পেছনে takeover process-এ অগ্রগতি না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

আরও পরে DEX-I পুনরায় অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য ও supporting documents-এর ঘাটতির কারণে সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরোনো ownership story-কে বর্তমান price surge-এর কারণ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোম্পানি নিজেই DSE-কে জানিয়েছে, বর্তমানে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের শেয়ার নতুন কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিবেচনায় নেই এবং এমন কোনো উদ্যোগ অনুমোদিতও হয়নি।

তাহলে বাজারে নজর কেন মিথুন নিটিংয়ে?

শেয়ারবাজারে price movement সব সময় কোম্পানির fundamental performance-এর সরাসরি প্রতিফলন নয়। বিশেষ করে কোনো listed stock-এ trading activity হঠাৎ বেড়ে গেলে investor interest, liquidity এবং বাজারের প্রত্যাশা—সবকিছুই price discovery-তে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মিথুন নিটিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। কারণ কোম্পানির operational অবস্থান দুর্বল হলেও শেয়ারদরে অস্বাভাবিক movement দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, DSE-এর প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি কোনো নতুন PSI বা গুরুত্বপূর্ণ corporate event-এর কথা জানায়নি। ফলে বর্তমান উত্থানকে takeover, নতুন বিনিয়োগ বা business revival-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো প্রকাশ্য তথ্য এখন নেই।

এখানেই বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ—দর বাড়া আর কোম্পানির মৌলভিত্তি বদলে যাওয়া এক বিষয় নয়।

শেয়ারবাজারে এখন নজর থাকবে কোন দিকে?

এখন মিথুন নিটিংয়ের ক্ষেত্রে মূল নজর থাকবে পরবর্তী corporate disclosure এবং trading activity-র ওপর।

কোম্পানির operational status বদলায় কি না, ownership transfer নিয়ে নতুন কোনো regulatory development আসে কি না এবং BSEC বা DSE-তে নতুন কোনো disclosure দেওয়া হয় কি না—এসবই পরবর্তী price movement বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, বর্তমান উত্থানের কোনো নির্দিষ্ট কারণ কোম্পানি প্রকাশ্যে নিশ্চিত না করায় শুধু price momentum দেখে ভবিষ্যৎ trend ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

অর্থাৎ, কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় শেয়ারদরের এমন উত্থান নিঃসন্দেহে বাজারের নজর কেড়েছে। কিন্তু এর পেছনে নিশ্চিত catalyst কী—সেই উত্তর এখনো কোম্পানি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশ্য তথ্য থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।


আরও পড়ুন

বেক্সিমকোর ১৮৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন

তথ্যসুত্রঃ


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *