দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থানকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
শেখ হাসিনা -কে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন এবং আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ইকরামুল হক।
৫৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -কে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন শিক্ষকের নাম শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এর প্রমাণ বা অভিযোগের পৃথক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত কমিটি কী করবে?
জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
অভিযোগগুলো পর্যালোচনার পর কমিটি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
অর্থাৎ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।
অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি
৫৮ শিক্ষকের নাম শনাক্ত করার কথা জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষ করে কথিত
‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা’ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, কারা কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বা এসব অভিযোগের ভিত্তি কী?
—এসব বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ফলে তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের পর অভিযোগগুলোর প্রকৃতি ও সত্যতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও তদন্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে দেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের ঘটনা ঘটেছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ৫৮ শিক্ষকের নাম শনাক্ত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী উঠে আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
