জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক আশার মাঝেই ইরানের আচমকা হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কিছুটা থিতিয়ে এসেছে—এমন ধারণার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির কথা বলছিলেন, ঠিক সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এ ঘটনাকে “attempted surprise attack” বা আচমকা হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কী ঘটেছে?
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর দিকে নিক্ষেপ করা হয়। হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে সব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে মার্কিন বাহিনীর কোনো তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কেন এই হামলা গুরুত্বপূর্ণ?
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠক শেষে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন এবং সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু সেই কূটনৈতিক বার্তার অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায়। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনাসহ একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কঠোর জবাবের ঘোষণা দিয়েছেন।
নতুন করে বাড়ছে কি উত্তেজনা?
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পরিবেশের মধ্যেই এ ধরনের হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিংক সমূহ :
১. Reuters
২. Axios
৩. The Guardian
৪. People
৫. The Australian
৬. AP News
৭. Investing
