মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের হতাহত সেনাদের তথ্য প্রকাশের নতুন পদ্ধতি চালু করেছে।

ইরান সংঘাতের হতাহতের তথ্য প্রকাশে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে পেন্টাগন।

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মার্কিন সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি বদলেছে পেন্টাগন। নতুন সরকারি তথ্যে আহত সেনার সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মার্কিন সেনাসদস্যদের হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। ব্রিটিশ দৈনিক The Guardian-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর অভিযোগ ওঠার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে The New York Times।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে আহত মার্কিন সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা আগের সরকারি হিসাবের তুলনায় বেশি বলে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। তবে সংস্থাটি তথ্য গোপনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হতাহতের তথ্য প্রকাশে নতুন পদ্ধতি

পেন্টাগন জানিয়েছে, ৭ জুলাইয়ের পর ইরান-সংক্রান্ত হতাহতের তথ্য আর মূল যুদ্ধের তালিকায় রাখা হবে না। পরিবর্তে এসব তথ্য “Overseas Military Operations Casualties” শিরোনামে পৃথক একটি ওয়েবপেজে প্রকাশ করা হচ্ছে।
ফলে এখন ইরান সংঘাতের মোট হতাহতের সংখ্যা জানতে আগ্রহীদের দুটি আলাদা সরকারি তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখতে হচ্ছে।

আহতের সংখ্যা বেড়ে ২০৭

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাইয়ের পর আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ২০৭ জন, যা পেন্টাগনের আগের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় ১৪২ জন বেশি।

এ ছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরুর পর মোট আহত সেনার সংখ্যা ৬২৪ জন এবং নিহতের সংখ্যা ১৮ জন বলে সরকারি তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেন্টাগনের Defense Casualty Analysis System (DCAS)-এ সম্প্রতি ইরান সংঘাতে নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্য আবারও যুক্ত করা হয়েছে। তবে এবার সেগুলো মূল তালিকার পরিবর্তে পৃথক বিভাগে স্থান পেয়েছে।

তথ্য গোপনের অভিযোগ অস্বীকার

গত সপ্তাহে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছিলেন, ৭ জুলাইয়ের পর আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১০০-এর কম।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে তথ্য গোপনের অভিযোগ নাকচ করে শন পারনেল বলেন, এসব অভিযোগ “সম্পূর্ণ মনগড়া” এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে এমন দাবি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *