তারেক রহমান ও সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। ফাইল ছবি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। তাঁর মতে, তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ঢাকা-দিল্লির যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিদ্যাভূষণ সোনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে ‘অনেক বেশি খোলামেলা’ এবং ‘ভারতবিরোধী নন’। তাঁর মতে, তারেক রহমান নিজে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেননি। তাই সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে তিনি ‘খুবই আশাবাদী’।
আরও পড়ুন : ‘হঠকারিতা’ বললেই কি গ্রেপ্তার? নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, তৈরি হচ্ছে ‘মামলার ন্যারেটিভ’
তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সুযোগ দেখছেন সোনি
সাবেক এই কূটনীতিক মনে করেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে।
এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দুই দেশ বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন সোনি।
রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রেও ভারত আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। ফলে তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করতে পারে।
আরও পড়ুন : বিদ্যুৎ সংকটে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ, হাসনাতের পাল্টা ৪ প্রস্তাব
‘তারেক রহমান ভারতবিরোধী নন’
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন বিদ্যাভূষণ সোনি।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি খোলামেলা মানুষ। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং নিজে এমন কোনো বক্তব্যও দেননি, যেটিকে ভারতের বিরুদ্ধে বলে মনে করা যায়।’
তাঁর দাবি, ভারতও সতর্কভাবে এই সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে।
তবে দুই দেশের সরকারি মুখপাত্রদের বক্তব্যকে তিনি মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন। দুই দেশের রাজনীতিবিদরা সরাসরি এ বিষয়ে কিছু না বলায় তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন : শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর
‘না এলে সুযোগটি হারিয়ে যাবে’
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সোনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুবই আশাবাদী।’
তাঁর মতে, ঢাকা-দিল্লির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।
‘তিনি (তারেক রহমান) যদি না আসেন, তাহলে এই সুযোগটি হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই যোগাযোগের পথ খোলা নাও থাকতে পারে। আমরা কেউই এই সুযোগ হারাতে চাই না। তাই আমি বেশ আশাবাদী,’ বলেন তিনি।
আরও পড়ুন : আসছে চার লংমার্চ, দেশজুড়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের
সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর দিল্লিতে গেলে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। তবে সফরের বিষয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -এর প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদেরও হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
ভারত অবশ্য শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।
