বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ—এআই জেনারেটেড ছবি

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে হাসনাত আবদুল্লাহর চ্যালেঞ্জ— প্রতীকী ছবি।

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পাল্টা চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সরকারের বিদ্যুৎ পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

১৭-ই আগস্ট, ২০২৬ | বাজলেন্স ডেস্ক

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সমাধানের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই বিরোধী দলের হাতে রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎখাতের সংকট মোকাবিলায় চারটি প্রস্তাব সামনে এনেছেন তিনি।

শনিবার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন হাসনাত।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য ছয় মাসের সময়সীমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তারা সমাধান পরিকল্পনা দিচ্ছেন।

হাসনাতের দাবি, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এরই মধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সরকার এসব প্রস্তাব আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন : আসছে চার লংমার্চ, দেশজুড়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

‘সমাধান আগেই টেবিলে ছিল’

হাসনাত বলেন, চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর জানা উচিত ছিল যে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, নাহিদ ইসলামের প্রস্তাবে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন হাসনাত।

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর

প্রধানমন্ত্রীর টিমের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা উল্লেখ করে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, এত বড় টিম থাকার পরও বিরোধী দলের প্রস্তাব ও নাগরিক সমাজের মতামত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি কেন।

তিনি বলেন, এটি শুধু নীতির বিষয় নয়; সরকারের টিমের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধেও সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই’

হাসনাতের অভিযোগ, প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের ফলে প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জায়গায় ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ বহাল রয়েছে।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুনের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন হাসনাত।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন হাসনাত।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। দাম দুই পক্ষের মধ্যে নির্ধারিত হবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি তদারকি করবে।

হাসনাতের দাবি, এ ব্যবস্থা চালু করতে মূলত এসএলএ ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করতে হবে।

‘ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, সরকারের’

প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, বিরোধী দল সেই সময়সীমা মেনে নিয়েছে। তবে এর দায় সরকারের ওপরই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। … ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের।’

সরকার ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন এত বড় বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে, সে প্রশ্নের জবাবদিহি সরকারেরই করা উচিত বলে মন্তব্য করেন হাসনাত।

শেষে তিনি বলেন, সমাধান তাদের হাতে থাকলেও ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে ছিল সমাধানের অভাবে, নাকি ক্ষমতার সক্ষমতার অভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *