শাহজালাল মাজারের ডেগে পাওয়া শেখ হাসিনার নামে লেখা চিঠি; পাশে শেখ হাসিনা।
১৫-ই আগস্ট, ২০২৬ । নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -এর নামে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু, নিরাপত্তা এবং দেশে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মাজার প্রাঙ্গণে তিনটি ডেগ ও তিনটি দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়।
চিঠিতে লেখক হিসেবে ‘সজিব’ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেকে গাজীপুরের বাসিন্দা এবং সিলেট আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে দেরি কেন?’—সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
‘প্রিয় নেত্রীর হায়াত বাড়িয়ে দেন’
চিঠিতে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে লেখক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। সেখানে নিজের হায়াত কমিয়ে শেখ হাসিনার হায়াত বাড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও লেখা হয়েছে।
চিঠির একটি অংশে লেখা হয়েছে, –
‘হে আল্লাহ তুমি মহান! আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়িয়ে দেন।’
এরপর চিঠিতে ‘প্রত্যাবর্তন-২’ শিরোনামের নিচে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বর-২০২৬’ লেখা রয়েছে। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন ‘ডিসেম্বরে ফিরব, রাজনীতি করব’—হাসিনার ঘোষণায় রিজভীর কড়া জবাব
মামলা থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা
চিঠিতে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোকে ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে এসব মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও দলটির নেতাকর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
তবে চিঠিতে উল্লিখিত এসব অভিযোগ বা বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ‘গোপন তৎপরতা’? ঢাবির ৫৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত
ডেগ ও দানবাক্সে আরও চিঠি
শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে তিনটি ডেগ ও তিনটি দানবাক্স খোলা হয়। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে টাকা গণনার সময় শেখ হাসিনার নামে লেখা চিঠিসহ আরও কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায়।
অন্যান্য চিঠিগুলোতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষার কথা লেখা ছিল।
মাজারের দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা হওয়ায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে দিনভর টাকা গণনা করা হয়। মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গণনার কাজ শেষ হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগে।
