ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবসায়িক মেসেজিং, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল কমার্সের মাধ্যমে রাজস্ব তৈরি করছে।
১৬-ই আগস্ট, ২০২৬ । The BuzzLens Explainer
আমরা প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপ -এ শত শত মেসেজ পাঠাই। পরিবারের সঙ্গে কথা বলি, অফিসের কাজ করি, ছবি-ভিডিও পাঠাই, গ্রুপে আলোচনা করি, ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ করি। এর জন্য আলাদা কোনো মাসিক বিল দিতে হয় না।
কিন্তু এই ‘ফ্রি’ সেবাটি মোটেও বিনামূল্যে চালানো হয় না।
বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের মেসেজ, কল, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানের পেছনে প্রয়োজন বিশাল সার্ভার অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রকৌশলী এবং ক্রমাগত সফটওয়্যার উন্নয়ন। প্রশ্ন তাই স্বাভাবিক
ব্যবহারকারী টাকা না দিলে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবসা চলে কীভাবে?
উত্তরটি শুধু বিজ্ঞাপনে নেই। বরং হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবসায়িক মডেল ধীরে ধীরে এমন একটি জায়গায় যাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারী নয়, ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে চাওয়া ব্যবসাই মূল অর্থদাতা।
আর এখানেই হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি লুকিয়ে আছে।
আরও পড়ুন : যন্ত্র নিজেই বুঝে নেবে আপনার চাহিদা! বিপ্লব ঘটাতে আসছে ওয়াই-ফাই ৮!
হোয়াটসঅ্যাপের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম
হোয়াটসঅ্যাপ যখন জনপ্রিয় হতে শুরু করে, তখন এর মূল আকর্ষণ ছিল সরলতা।
কোনো বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো নিউজফিড নেই, জটিল বিজ্ঞাপনের ভিড় নেই, ব্যবহারকারীর সামনে প্রতিনিয়ত নতুন কনটেন্ট ঠেলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেই।
মানুষ মূলত একজন আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই এটি ব্যবহার করত।
পরে ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা হোয়াটসঅ্যাপকে অধিগ্রহণ করে। তখন থেকেই একটি বড় প্রশ্ন ছিল
এত বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি থেকে মেটা আসলে কীভাবে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করবে?
কারণ ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন সরাসরি ব্যবসার কেন্দ্রীয় অংশ। কিন্তু ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে একই ধরনের বিজ্ঞাপন ঢোকানো হলে সেটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং গোপনীয়তার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে।
মেটা তাই অন্য রাস্তা বেছে নিয়েছে।
আরও পড়ুন : শ্রমবাজারের মহা-পুনর্গঠন: AI কি কাজ কাড়বে নাকি মানুষের কাজের সংজ্ঞাই বদলে দেবে?
ব্যবহারকারীর চ্যাট নয়, ব্যবসার যোগাযোগই বড় বাজার
হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবর্তন হলো—এটি ধীরে ধীরে শুধু মেসেজিং অ্যাপ না থেকে business communication platform হয়ে উঠছে।
অর্থাৎ, আপনি হয়তো হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুকে একটি মেসেজ পাঠানোর জন্য কোনো টাকা দিচ্ছেন না। কিন্তু একটি কোম্পানি যদি একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়, তখন সেই যোগাযোগের পেছনে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হচ্ছে।
এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
ধরা যাক, একটি অনলাইন পোশাকের দোকান আপনার কাছে একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে চায়। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দেখানো এক ধরনের পথ।
কিন্তু বিজ্ঞাপন দেখানোর পর আপনাকে যদি সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ব্যবসার জন্য সেটি আরও মূল্যবান হতে পারে।
কারণ সেখানে বিজ্ঞাপনদাতা শুধু আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে না— আপনার সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের দরজাও খুলে দিচ্ছে।
এই জায়গাটিই হোয়াটসঅ্যাপকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করছে।
আরও পড়ুন : Dark Web কি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়, নাকি ইন্টারনেটের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা আরেক বাস্তবতা?
হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবসা মানে শুধু বিজ্ঞাপন নয়
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবসায়িক মডেলকে শুধু ‘বিজ্ঞাপন’ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ব্যবসার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ এখন গ্রাহকসেবা, অর্ডার, বুকিং, পেমেন্ট, রিফান্ড, প্রচারণা—এমন অনেক কাজের জায়গা হয়ে উঠছে।
মেটা নিজেই বলছে, হোয়াটসঅ্যাপে মানুষ ইতোমধ্যে ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি টিকিট বুকিং, ডেলিভারি আপডেট কিংবা বিল পরিশোধের মতো কাজ করছে।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের ধারণাটি অনেকটা এমন:
দেখুন → ক্লিক করুন → চ্যাট করুন → অর্ডার করুন → পেমেন্ট করুন → রিফান্ড নিন—সব একই জায়গায়।
ব্যবসার জন্য এর অর্থ হলো, গ্রাহককে একটি ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটে, সেখান থেকে অন্য অ্যাপে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমে যেতে পারে।
আর ব্যবহারকারীর জন্য এর অর্থ—দৈনন্দিন অনেক কাজের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ একটি ‘ডিজিটাল দরজা’ হয়ে উঠতে পারে।
‘চ্যাট’ থেকে ‘কমার্স প্ল্যাটফর্ম’
এখানেই হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসে।
একটি মেসেজিং অ্যাপ কখন একটি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়?
যখন সেখানে শুধু মানুষ কথা বলে না, বরং কথোপকথনের মধ্য দিয়েই অর্থনৈতিক লেনদেন শুরু হয়।
একজন ক্রেতা লিখলেন—
‘এই পণ্যটি আছে?’
ব্যবসা উত্তর দিল—
‘আছে।’
তারপর দাম, ডেলিভারি, পেমেন্ট, অর্ডার কনফার্মেশন— সবকিছু একই চ্যাটে হয়ে গেল।
এখানে হোয়াটসঅ্যাপ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার পুরো সম্পর্কের একটি অংশ হয়ে যাচ্ছে।
মেটা ২০২৫ সালে ব্যবসার জন্য হোয়াটসঅ্যাপের নতুন টুল নিয়ে বলেছিল, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা ও গ্রাহকের যোগাযোগকে আরও কার্যকর করা। একই সময়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সহায়তা, কল এবং AI -ভিত্তিক customer support-এর মতো ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন : 5G কী? কীভাবে কাজ করে, 4G থেকে পার্থক্য, ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
বিজ্ঞাপন কোথায় আসছে?
হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি এসেছে Updates ট্যাবে।
মেটা ২০২৫ সালে ঘোষণা করে যে হোয়াটসঅ্যাপের Updates অংশে Channel subscriptions, Promoted Channels এবং Ads in Status চালু করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এগুলো ব্যক্তিগত চ্যাটের ভেতরে নয়, Updates অংশে রাখা হচ্ছে।
এটি আসলে মেটার জন্য একটি কৌশলগত সমাধান।
কারণ ব্যক্তিগত চ্যাটের মধ্যে বিজ্ঞাপন ঢোকালে ব্যবহারকারীর বিরক্তি এবং গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
কিন্তু Status বা Channels -এর মতো জায়গায় বিজ্ঞাপন তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক মনে হতে পারে।
এখানে মেটা একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য পূরণ করতে পারে—
ব্যক্তিগত কথোপকথনকে তুলনামূলকভাবে অক্ষত রাখা এবং প্ল্যাটফর্মের বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি থেকে নতুন রাজস্ব তৈরি করা।
তাহলে কি হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের ব্যক্তিগত মেসেজ পড়ে বিজ্ঞাপন দেখায়?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা দরকার।
মেটার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত মেসেজ ও কল end-to-end encrypted এবং সেগুলো বিজ্ঞাপন নির্ধারণে ব্যবহার করা হয় না। ২০২৫ সালে Updates -এর বিজ্ঞাপন চালুর ঘোষণা দিতে গিয়ে মেটা বলেছিল, ব্যক্তিগত মেসেজ, কল ও গ্রুপে থাকা তথ্য বিজ্ঞাপন নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবসায়িকভাবে কোনো তথ্যই ব্যবহার করতে পারে না।
Updates -এর বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে মেটা দেশ বা শহর, ভাষা, কোন Channels অনুসরণ করছেন এবং বিজ্ঞাপনের সঙ্গে কীভাবে ইন্টারঅ্যাক্ট করছেন—এ ধরনের সীমিত তথ্য ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। Accounts Center -এর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ যুক্ত থাকলে Meta -এর অন্যান্য অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত পছন্দও ব্যবহৃত হতে পারে।
এখানেই আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতির একটি সূক্ষ্ম বিষয় সামনে আসে।
কোনো কোম্পানির কাছে আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথনের বিষয়বস্তু না থাকলেও, আপনার ডিজিটাল আচরণের অন্যান্য সংকেত তার ব্যবসায়িক মূল্য তৈরি করতে পারে।
‘ফ্রি’ শব্দটির অর্থ তাহলে কী?
এখানে ‘ফ্রি’ শব্দটিকে একটু নতুনভাবে দেখা দরকার।
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে আপনি সাধারণত কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি দিচ্ছেন না। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে ব্যবসাগুলো আপনার কাছে পৌঁছাতে অর্থ ব্যয় করতে পারে।
এটি অনেকটা একটি বিশাল শপিং মলের মতো।
আপনি মলে ঢোকার জন্য টাকা দিচ্ছেন না। কিন্তু দোকানগুলো জায়গা ভাড়া দিচ্ছে, বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্থ ব্যয় করছে।
হোয়াটসঅ্যাপও ক্রমে এমন একটি ডিজিটাল অবকাঠামো হয়ে উঠতে পারে, যেখানে-
ব্যবহারকারী হলো audience এবং ব্যবসা হলো paying customer।
এখানেই মেটার সবচেয়ে বড় সুবিধা
মেটার হাতে একটি অসাধারণ সম্পদ আছে— স্কেল (Scale)।
একটি ছোট কোম্পানির জন্য কয়েক লাখ সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানো কঠিন।
কিন্তু কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, সেখানে ব্যবসার জন্য সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ।
মেটা ২০২৫ সালে জানিয়েছিল, WhatsApp -এর Updates tab প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ১.৫ বিলিয়ন মানুষ ব্যবহার করছিল।
এমন বিশাল audience -এর ওপর ব্যবসায়িক সেবা তৈরি করার অর্থ হলো— প্রতিটি ব্যবহারকারীকে আলাদা করে টাকা দিতে হবে না। বরং সেই ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগটিই অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ কি ফেসবুকের মতো হয়ে যাবে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা আছে।
হোয়াটসঅ্যাপকে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো বানানো মেটার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কারণ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপকে মূলত ব্যক্তিগত যোগাযোগের জায়গা হিসেবে দেখে।
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দেখা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত চ্যাটের মাঝখানে বিজ্ঞাপন ঢুকে গেলে সেটি অনেক বেশি intrusive বা অনধিকারচর্চার মতো মনে হতে পারে।
মেটাও এই পার্থক্যটি বুঝতে পারছে বলেই বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক আবিষ্কারের নতুন ফিচারগুলো Updates tab -এর দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। মেটার ভাষায়, এতে ব্যক্তিগত চ্যাটের অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন না এনেই ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
অন্য মেসেজিং অ্যাপগুলো কীভাবে আয় করে?
হোয়াটসঅ্যাপের মডেলকে আরও ভালোভাবে বুঝতে হলে অন্যদের দিকে তাকানো যায়।
Signal: টাকা নয়, অনুদান
Signal সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে।
এটি একটি nonprofit প্রতিষ্ঠান। Signal -এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এতে বিজ্ঞাপন নেই, tracking নেই এবং সেবাটি donations ও grants -এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
অর্থাৎ Signal -এর মডেল হলো—
ব্যবহারকারী → সেবা পায় → ব্যবহারকারী বা সমর্থকের অনুদান → সেবার খরচ মেটায়।
এখানে লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর তথ্যকে বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত না করা।
Discord: ফ্রি ব্যবহারকারী + Premium
Discord আবার অন্য পথ নিয়েছে।
মূল সেবা বিনামূল্যে থাকলেও অতিরিক্ত সুবিধার জন্য Nitro -এর মতো paid subscription রয়েছে।
অর্থাৎ ব্যবহারকারীর একটি অংশ সরাসরি অর্থ দেয়, আর বাকিরা বিনামূল্যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে।
Snapchat: বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন
Snapchat -এর মডেলে বিজ্ঞাপন গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি paid subscription -ও রয়েছে।
অর্থাৎ একই প্ল্যাটফর্মে একাধিক revenue stream তৈরি করা যায়।
এই তিনটি মডেল দেখলে হোয়াটসঅ্যাপের কৌশলটি আরও পরিষ্কার হয়।
Signal—privacy-first nonprofit।
Discord—freemium।
Snapchat—ads + subscription।
WhatsApp—business messaging + advertising + commerce-এর দিকে এগোচ্ছে।
তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ কোথায়?
সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে ‘মেসেজিং’ থেকে ‘transaction’ বা লেনদেনের দিকে।
একজন মানুষ ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে শুধু মেসেজ পাঠাবে না।
সে হয়তো—
- রেস্টুরেন্ট বুক করবে,
- বাস বা অন্য পরিবহনের টিকিট কিনবে,
- কোনো পণ্যের অর্ডার দেবে,
- ডেলিভারি ট্র্যাক করবে,
- কোম্পানির customer support-এ কথা বলবে,
- রিফান্ড চাইবে,
- কোনো ব্যবসার AI assistant -এর সঙ্গে কথা বলবে।
মেটার সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোও এই দিকেই ইঙ্গিত করে। ব্যবসার জন্য AI support, calling এবং WhatsApp, Facebook ও Instagram জুড়ে marketing campaign পরিচালনার মতো সুবিধা ইতোমধ্যে বাড়ানো হচ্ছে।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের হোয়াটসঅ্যাপ হতে পারে এমন একটি জায়গা যেখানে conversation এবং commerce একই অভিজ্ঞতার অংশ।
কিন্তু এখানেই গোপনীয়তার বড় প্রশ্ন
ব্যবসা যত বাড়বে, ততই privacy নিয়ে প্রশ্ন বাড়বে।
মেটা বলছে ব্যক্তিগত চ্যাট end-to-end encrypted এবং ব্যক্তিগত কথোপকথনের বিষয়বস্তু বিজ্ঞাপন নির্ধারণে ব্যবহার করা হয় না। এটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।
কিন্তু ব্যবহারকারীর ডিজিটাল আচরণ, কোন ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কোন Channel অনুসরণ করছে, কোন বিজ্ঞাপনে সাড়া দিচ্ছে—এসবের মতো metadata ও interaction signal-এর অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে।
তাই ভবিষ্যতের প্রশ্ন শুধু—
‘মেটা কি আমার মেসেজ পড়ছে?’
এতটা সরল নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—
‘আমার ডিজিটাল আচরণ থেকে কোন ধরনের বাণিজ্যিক মূল্য তৈরি হচ্ছে, এবং সেই মূল্য কে নিয়ন্ত্রণ করছে?’
এটাই আগামী দিনের বড় privacy debate-এর একটি অংশ হতে পারে।
‘ফ্রি’ মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবসায়িক মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো friction কম।
ব্যবহারকারীকে প্রথমে টাকা দিতে হচ্ছে না। ফলে নতুন ব্যবহারকারী যোগ দেওয়া সহজ।
ব্যবহারকারী যত বাড়ে, প্ল্যাটফর্মের মূল্যও তত বাড়ে।
আর ব্যবহারকারী যত বেশি, ব্যবসার কাছে বিজ্ঞাপন, customer support ও commerce -এর জন্য প্ল্যাটফর্মটি তত আকর্ষণীয় হয়।
এটি একটি self-reinforcing cycle:
বেশি ব্যবহারকারী → বেশি ব্যবসা → বেশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ → বেশি আয় → আরও উন্নত সেবা → আরও ব্যবহারকারী।
কিন্তু বিপরীত ঝুঁকিটিও আছে।
ব্যবসায়িক চাপ যদি এত বেশি হয় যে ব্যবহারকারী মনে করেন হোয়াটসঅ্যাপ আর ব্যক্তিগত যোগাযোগের জায়গা নেই, তাহলে তার আস্থায় আঘাত লাগতে পারে।
আর মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো—trust।
শেষ কথা: আপনি টাকা না দিলেও ব্যবসাটি বিনামূল্যে নয়
হোয়াটসঅ্যাপের অর্থনৈতিক গল্পটি আসলে আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবসার একটি বড় পরিবর্তনের গল্প।
একসময় প্রশ্ন ছিল—
‘ব্যবহারকারীর কাছ থেকে টাকা কীভাবে নেওয়া হবে?’
এখন প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রে বদলে গেছে—
‘ব্যবহারকারীকে টাকা দিতে না বাধ্য করেও তার চারপাশে কীভাবে একটি অর্থনৈতিক ecosystem তৈরি করা যায়?’
হোয়াটসঅ্যাপ সেই দ্বিতীয় পথেই এগোচ্ছে।
ব্যক্তিগত চ্যাট বিনামূল্যে রাখা হচ্ছে। ব্যবসাকে দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ। Status ও Channels-এ তৈরি হচ্ছে বিজ্ঞাপন ও subscription -এর নতুন জায়গা। আর কথোপকথনকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
তাই হোয়াটসঅ্যাপের আসল ব্যবসা হয়তো ‘মেসেজ বিক্রি’ নয়।
আসল ব্যবসা হলো—মানুষ যেখানে প্রতিদিন কথা বলে, সেই জায়গাটিকে এমন একটি অবকাঠামোতে পরিণত করা, যেখানে ব্যবসাগুলো গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, বিক্রি ও সেবা—সবকিছু করতে চায়।
আপনি টাকা না দিলেও তাই হোয়াটসঅ্যাপের অর্থনীতি থেমে থাকে না।
বরং আপনার উপস্থিতিই সেই অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
