একই ছবিতে সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিকৃতি।

সাম্প্রতিক Gen Z আন্দোলন, শিক্ষা সংস্কার এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে একই ফ্রেমে সোনাম ওয়াংচুক ও নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের সাম্প্রতিক Gen Z আন্দোলনের প্রভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থান দুর্বল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।

নয়াদিল্লি: ভারতের সাম্প্রতিক Gen Z (জেন-জি) আন্দোলনের প্রভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। তার ভাষ্য, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে শিক্ষা ইস্যুর গণ্ডি ছাড়িয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় Gen Z আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

‘Gen Z আন্দোলন’ তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে


সোনাম ওয়াংচুক বলেন, সাম্প্রতিক Gen Z আন্দোলনের ফলে দেশের তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তারা এখন বিশ্বাস করছে, ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তার দাবি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরে ভারতজুড়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। ওয়াংচুকের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্দোলন সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

২৬ দিনের অনশন, কমেছে ১১ কেজি ওজন

৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক জানান, আন্দোলনের সময় তিনি দিল্লিতে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এ সময় তিনি শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করেন। অনশনের ফলে তার ওজন ১১ কেজি কমে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, অনশনের শেষ ছয় দিন তাকে জোর করে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল, যা তার ভাষায় ছিল কারাগারের মতো।

শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের দাবি


ওয়াংচুক বলেন, Gen Z আন্দোলনের পর সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে প্রযুক্তি খাতের একজন শীর্ষ উদ্যোক্তাকে দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রশ্নফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা।

তবে তার মতে, শুধু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মুখস্থনির্ভর ও বহু নির্বাচনী প্রশ্নকেন্দ্রিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের উপযোগিতা তৈরি হচ্ছে না।

তিনি মনে করেন, শিক্ষা ও পরীক্ষার ধরন এমন হওয়া উচিত, যা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠবে, অন্যদিকে দেশের বেকারত্ব সমস্যাও কমতে পারে।

আন্দোলনকারীদের হয়রানির অভিযোগ

ওয়াংচুকের দাবি, Gen Z আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী এখনো মামলা, পুলিশি হয়রানি এবং সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হলেও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই—এমন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির পরাজয়ের ঘটনাও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতিতে নয়, অহিংস আন্দোলনের পথে

নিজে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে সোনাম ওয়াংচুক বলেন, তিনি মহাত্মা গান্ধীর অহিংস দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথেই থাকবেন। প্রয়োজন হলে আবারও অনশনের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *