Photo of Vladimir PutinRussia- Ukraine war news

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৬ | ঢাকা | 
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত দোনেৎস্ক অঞ্চলের কোস্তিয়ানতিনিভকা শহর এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। মস্কোর এই কৌশলগত অগ্রগতি পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে — এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই সরাসরি কমান্ড পোস্টে হাজির হয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

কোস্তিয়ানতিনিভকা — কেন এই শহর এত গুরুত্বপূর্ণ?
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার (৩ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, তাদের বাহিনী দোনেৎস্কের এই শিল্প ও পরিবহন কেন্দ্রটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পুতিন নিজে এটিকে “দোনবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও বৃহৎ শিল্প কেন্দ্র” বলে উল্লেখ করেছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সেনা সদস্যরা।

পুতিনের সরাসরি বার্তা — “নিরাপত্তা বলয় আরও বড় হবে”
কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনকালে পুতিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি যুদ্ধের বিস্তারিত পরিস্থিতি জেনে নেন। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জবাবে পুতিন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন — ইউক্রেন যত বেশি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে, রাশিয়া তত বেশি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় বিস্তার করবে।

লিমানের দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা
কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের পর রুশ বাহিনী থেমে নেই। প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকে ইতিমধ্যেই অগ্রসর হচ্ছে মস্কোর সেনারা। রুশ সামরিক সূত্র জানিয়েছে, লিমান তাদের পরবর্তী অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায়ও নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠায় রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন নিকিফোরভ।

জেলেনস্কির দাবি বনাম পুতিনের বাস্তবতা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করছেন, বছরের শুরু থেকে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে এসেছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকা পুনর্দখলও করেছে। তবে পুতিন এসব বক্তব্যকে সরাসরি “তথ্যযুদ্ধের অংশ” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মাসে জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে পুতিনের কাছে উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন তা প্রত্যাখ্যান করে।

শান্তি আলোচনা — কবে, কোথায়?
ইরান সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই আশাবাদী — মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই সফরে আসবেন। এই সফর ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে কিনা, তা এখন গোটা বিশ্বের নজরে।

💬 আপনার মতামত জানান
কোস্তিয়ানতিনিভকার পতন এবং পুতিনের “নিরাপত্তা বলয় বিস্তারের” হুঁশিয়ারি কি ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে? নাকি কুশনার-উইটকফের সফর কোনো সমাধানের পথ খুলে দেবে?
নিচে কমেন্ট করুন! 👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *