Rakhine-Myanmar-Rohingya-CrisisRakhine-Myanmar-Rohingya-Crisis
Rakhine-rohingya-crisis-myanmar

[০৩ জুলাই ২০২৬ | টেকনাফ | TheBuzzLens Desk


রাতভর বিমান হামলার বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত। মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাতের জেরে সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা।

কী ঘটছে সীমান্তের ওপারে?
রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সূত্র অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৯টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টায় দুটি যুদ্ধবিমান থেকে অন্তত ২৭ বার বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে। প্রতিটি হামলায় একসঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়টি বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার তীব্রতা নাফ নদীর এপারে বাংলাদেশের ঘরবাড়ি পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। জবাবে আরাকান আর্মিও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সীমান্তে বিজিবি-কোস্টগার্ডের সতর্কতা
উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতে তীব্র বিমান হামলার শব্দ শোনা গেলেও আজ বিকেল পর্যন্ত নতুন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি এবং সীমান্তে কোনো গুলি এসে পড়া বা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। তবে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।

বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা বাড়ছে
উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের নেতা মো. জুবায়েরের বরাতে জানা গেছে, বিমান হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থলপথেও আরাকান আর্মির সঙ্গে আরও তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা রাখাইনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর রাখাইনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে, শুধু রাজধানী সিত্তে জান্তা বাহিনীর হাতে রয়েছে — আর সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো।

বাংলাদেশে কী প্রভাব?
সবরান্দ ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ওপারের সংঘাত বাড়লে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তবে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ দিনভর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

💬 আপনার মতামত জানান
মিয়ানমার সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? জানান কমেন্টে 👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *