[০৩ জুলাই ২০২৬ | তেহরান | আন্তর্জাতিক  ডেস্ক
ছবি : সংগ্রহীত

মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে।

মরদেহ সংরক্ষণের নেপথ্যের রহস্য
জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানিয়েছেন, খামেনির মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি, বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই প্রায় নিশ্চিত তিনি। কারণ ইসলামি বিধানে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ নিষিদ্ধ, তবে ভিন্ন পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করে শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

বারবার কেন পরিবর্তিত হলো দাফনের পরিকল্পনা?
ড. ওমরের মতে, মরদেহ অক্ষত অবস্থায় থাকলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল করা, দাফনের স্থান একাধিকবার পরিবর্তন করা কিংবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিত না করার প্রয়োজন পড়ত না। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে মরদেহ সংরক্ষণ সম্ভব হলেও তা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় নেই।

বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি, একই সাথে কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে যেকোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন খামেনি, যিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বাংলাদেশে কী প্রভাব?
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, যার ঢেউ পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অনুভূত হতে পারে, বিশেষত জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে।

💬 আপনার মতামত জানান
খামেনির দাফন নিয়ে সৃষ্ট এই জটিলতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? মতামত জানান কমেন্টে 👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *