Ghalibaf-Araghchi-Ceasefire-Talks
Ghalibaf-Araghchi-Ceasefire-Talks

০৩ জুলাই ২০২৬ | তেহরান | TheBuzzLens
যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্র। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কেন টার্গেট ছিলেন গালিবাফ-আরাঘচি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে হত্যার সম্ভাব্য ইসরাইলি পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে তেহরানকে সতর্ক বার্তা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করাই ছিল ইসরাইলের অন্যতম প্রধান কৌশল — সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি থেকে শুরু করে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি পর্যন্ত বহু নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, আলোচনার সময় এই দুই আলোচক নিহত হলে অন্তর্বর্তী শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে।

টার্গেট তালিকা থেকে নাম সরানোর নাটকীয়তা
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি ও গালিবাফ ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাময়িকভাবে তাদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন জানতে পারার পরই ওয়াশিংটন ইসরাইলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়। এর আগে ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ ও চলতি বছরের সংঘাতে এক গোপন বাঙ্কারে বৈঠকের সময় হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান গালিবাফ — তিনজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, উভয়বারই তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঝুঁকি নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যান তারা
এপ্রিলে ইসলামাবাদে বৈঠকের পর ইরানি আইনপ্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানেহ জানান, গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি জেনেও আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন গালিবাফ, আরাঘচি ও প্রতিনিধিদলের অন্যরা। পাকিস্তান সফরকালে ৭০ জনের বেশি সদস্যের ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুদ্ধবিমান নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় পাকিস্তান, তবে ফেরার পথে নিরাপত্তা হুমকির মুখে বিমানকে মাশহাদে জরুরি অবতরণ করতে হয় এবং প্রতিনিধিদলকে সড়কপথে প্রায় আট ঘণ্টা ভ্রমণ করে তেহরানে ফিরতে হয়। এরপরও থামেননি তারা — মে ও জুনে কাতার এবং সুইজারল্যান্ডে গিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান আরাঘচি ও গালিবাফ।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভিন্ন লক্ষ্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধবিরতি চাইলেও ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী ছিল, কারণ যুদ্ধবিরতি হলে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে তাদের আশঙ্কা ছিল। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি তাদের মূল লক্ষ্য — সরকার পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ক্ষতিসাধন — পূরণ করতে পারেনি।

বাংলাদেশে কী প্রভাব?
মধ্যপ্রাচ্যের এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি-নির্ভর অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

💬 আপনার মতামত জানান
শান্তি আলোচনার মধ্যেই এমন হত্যা-পরিকল্পনার অভিযোগ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? মতামত জানান কমেন্টে 👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *