পাত্র সেজে ফাঁদ পাতল পুলিশ! কিশোরী তিথি হত্যার নেপথ্যে বেরিয়ে এল প্রবাসী টাকার ভয়ংকর লোভের গল্প

[নরসিংদী | TheBuzzLens
পাত্র সেজে এক বাড়িতে ঢুকলেন পুলিশ কর্মকর্তা — আর সেই কথোপকথনেই ফাঁস হয়ে গেল মাসব্যাপী আলোচিত এক হত্যারহস্যের জট। নরসিংদীর কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি হত্যা মামলায় এমনই নাটকীয় কৌশলে দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
যেভাবে থেমে যায় তিথির জীবন
২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচর গ্রামে নিজ বাড়িতে হাতুড়ির আঘাতে নিহত হয় মাত্র ১৩ বছর বয়সী তিথি। হামলায় গুরুতর আহত হন তার মাও। ঘটনাস্থল থেকে লুট হয় নগদ টাকাও। চারদিকে সিসিটিভি কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় শুরুতে তদন্ত আটকে যায় এক ভয়াবহ অন্ধকারে।
মুঠোফোনের তথ্যেই বদলে গেল মোড়
তদন্তকারীরা যখন প্রায় দিশেহারা, তখনই পরিবারের আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে উঠে আসে এক নাম — হাসিবুর রহমান শান্ত। প্রবাসী জামাতার পাঠানো টাকা তোলায় সহায়তা করতেন তিনি। তার মুঠোফোনের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে, হত্যার রাতে তিনি ছিলেন নরসিংদীতেই। প্রায় একই সময়ে আরেকটি সূত্র জানায়, ছোট ভাই রমজান আলী বিপুল টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের দিকে। এরপরই শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস নজরদারি।
পাত্র সেজে চূড়ান্ত অভিযান
কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর ও নরসিংদীতে কয়েকদিনের নিরলস অনুসন্ধান শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় দুই ভাইয়ের সম্পৃক্ততা। এরপর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একেবারে অভিনব কৌশলে এক কর্মকর্তা পাত্র সেজে ঢোকেন সন্দেহভাজনদের আত্মীয়র বাড়িতে। কথার ফাঁকেই মেলে আসল ঠিকানা, আর তাতেই গ্রেপ্তার হন রমজান ও হাসিবুর। পরে তাদের তথ্যেই ধরা পড়েন আরও দুই সহযোগী কাউছার মিয়া ও ইমন আলী।
জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রবাসী আয়ের টাকার লোভেই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন রমজান। হাতুড়ি ও রশি কিনে রাতে বাড়িতে ঢুকে তিথিকে হত্যা করা হয়, এরপর লাল বালতিতে লুকানো নগদ টাকা স্কুলব্যাগে ভরে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।
চার আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, অভিযোগপত্রও দাখিল হয়েছে। মামলার বিচারকাজ এখন চলমান।
💬 আপনার মতামত জানান
প্রবাসী আয়ের লোভে এমন নৃশংসতা — সমাজে এর প্রতিকার কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন? জানান কমেন্টে 👇