থানায় ঢুকে পুলিশকে নির্মম মারধর — কাশ্মীরে ৪০ ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ | ঢাকা

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ারে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় থানার ভেতর ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক মারধর করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে একজন কর্নেল, একজন মেজর ও একজন নায়েব সুবেদারসহ ৪০ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও সরকারি সম্পদ বিনষ্টের মামলা করেছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কিস্তওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন অফিসার সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি জব্দ করার পরই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সেনা সদস্যরা। ওই কর্মকর্তা তখন থানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। সেনা সদস্যরা দেয়াল টপকে থানায় প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেন।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, সেনা সদস্যরা লাঠি, লোহার রড এমনকি অস্ত্র নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। পুলিশের দাবি, তাদের উদ্দেশ্যই ছিল পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা — সেই লক্ষ্যেই লাঠি ও লোহার রড সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তারা। হামলার শিকার হন পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিজয় কুমার বাঘাত এবং স্টেশন হাউজ অফিসার অমৃত কাটোচ।
মামলায় বলা হয়েছে, স্টেশন হাউজ অফিসার অমৃত কাটোচ তখন একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলেন। থানায় হামলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিজয় কুমার বাঘাতকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে এবং সেনা সদস্যরা তার পোশাক পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেন।
?
পুলিশের দায়ের করা মামলায় ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা এবং নায়েব সুবেদার শঙ্কর ঘুর্খেসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ সেনা সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা ও সরকারি সম্পদ বিনষ্টের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে তদন্তে পুলিশকে সম্পূর্ণ সহায়তা করবে। তবে এই ঘটনা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেসামরিক প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যকার সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর দিক সামনে নিয়ে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরই যদি সেনাবাহিনীর এই আচরণ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আপনি কী মনে করেন? কমেন্টে মতামত জানান।