“হাত কেটে ফেলব!” — সিন্ধু নদের পানি নিয়ে ভারতকে সরাসরি হুমকি পাকিস্তানের

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ | ঢাকা
“হাত কেটে ফেলব!” — সিন্ধু নদের পানি নিয়ে ভারতকে সরাসরি হুমকি পাকিস্তানের
সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবার চরমে পৌঁছেছে। ভারতের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন — তাদের প্রাপ্য পানির ওপর হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রীর একটি ঘোষণার পরই ইসলামাবাদ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হবে। এই ঘোষণার পরই ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কল নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দিতে চান না।
মুসাদিক মালিক জানান, পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি সরাসরি সিন্ধু নদের পানির সঙ্গে জড়িত। তাই এই পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী উজানের দেশ নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।
১৯৬০ সালের চুক্তি ও ‘রেড লাইন’!
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি এখনও আইনগতভাবে বহাল আছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে তা বাতিল করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের ‘রেড লাইন’।
অন্যদিকে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড়। গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি এই চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। পাকিস্তান তাদের মাটিতে থাকা সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের দৃশ্যমান প্রমাণ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
সিন্ধু নদের পানি নিয়ে এই উত্তেজনা কি যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে বলে মনে করেন? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।