“স্টান্টবাজি!” — হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় চিফ প্রসিকিউটরের কড়া চ্যালেঞ্জ
সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৬ | ঢাকা

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে সরাসরি “রাজনৈতিক স্টান্টবাজি” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন — সত্যিই সাহস থাকলে দেশে এসে জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার মোকাবিলা করুক।
চিফ প্রসিকিউটরের সরাসরি চ্যালেঞ্জ
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া সহজ, কিন্তু বাস্তবে ফেরার সাহস দেখাতে হবে। জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে পলাতক থাকা একজন আসামির এই ঘোষণাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। তার ভাষায় — এটি জনগণের দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল মাত্র।
ট্রাইব্যুনালে একই দিনে বড় অগ্রগতি
একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সাবেক আইজিপির মামলায় নতুন সময়সীমা
এছাড়া বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রদল নেতা মো. নুরুজ্জামান জনিকে হত্যার মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হকসহ দুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও দুই মাস সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতা কী বলছে?
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা একদিকে যেমন তার দলের নেতাকর্মীদের মনে আশার সঞ্চার করছে, অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও একাধিক মামলার অগ্রগতি স্পষ্ট করছে — ফেরার পথ মোটেও সহজ নয়। বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং আইনের হাত দীর্ঘ।
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে আপনি কি স্টান্টবাজি মনে করেন, নাকি সত্যিকারের রাজনৈতিক সংকল্প? কমেন্টে আপনার মত জানান।